দেশ জুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। এই কনকনে ঠান্ডায় মানুষের পাশাপাশি আপনার শখের মোটরসাইকেলটিরও বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে শীতকালে বাইকের ইঞ্জিনের প্রাণভোমরা ‘ইঞ্জিন অয়েল’ বা মবিল নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন অনেক চালক। শীতকালে ঠিক কত দিন বা কত কিলোমিটার পর পর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা উচিত এবং কেন—চলুন জেনে নেওয়া যাক।
শীতকালে কেন দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন?
বিজ্ঞাপন
শীতকালে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কম থাকায় ইঞ্জিন অয়েলের ঘনত্ব (Viscosity) বেড়ে যায়। এতে তেল ঘন হয়ে ইঞ্জিনের ভেতরে রক্তসঞ্চালনের মতো প্রবাহে বাধা দেয়। এছাড়া ঠান্ডায় ইঞ্জিন চালু করার সময় (Cold Start) ঘর্ষণ বেশি হয়, যা তেলের গুণগত মান দ্রুত নষ্ট করে দেয়। তাই সাধারণ সময়ের চেয়ে শীতে কিছুটা দ্রুত ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
কত কিলোমিটার পর পর বদলাবেন?
মোটরসাইকেলে কোন ধরনের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করছেন, তার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তনের সময় নির্ধারণ করা উচিত:
মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল: যদি আপনি সাধারণ মিনারেল অয়েল ব্যবহার করেন, তবে শীতকালে প্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার পর পর এটি পরিবর্তন করা উচিত।
বিজ্ঞাপন
সেমি-সিন্থেটিক অয়েল: এই ধরনের তেলের ক্ষেত্রে ১৫০০ থেকে ১৮০০ কিলোমিটার চালানো যেতে পারে।
ফুল সিন্থেটিক অয়েল: যারা দামী বা সিন্থেটিক অয়েল ব্যবহার করেন, তারা ২৫০০ থেকে ৩০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চালাতে পারেন। তবে ইঞ্জিনের দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য শীতে ২৫০০ কিমির মধ্যেই বদলে ফেলা ভালো।

শীতের জন্য সঠিক গ্রেড নির্বাচন
ইঞ্জিন অয়েলের প্যাকেটে '10W-30' বা '20W-40' এর মতো কোড দেখা যায়। এখানে 'W' মানে হলো Winter বা শীতকাল। শীতে কম সান্দ্রতার বা পাতলা তেল ব্যবহার করা ভালো যাতে কোল্ড স্টার্টে সমস্যা না হয়।
শীতের দেশের জন্য 10W গ্রেডটি সবচেয়ে উপযোগী।
আপনার বাইকের ম্যানুয়ালে যদি 20W-40 ব্যবহারের পরামর্শ থাকে, তবে শীতে আপনি 10W-40 ব্যবহার করতে পারেন। এতে ইঞ্জিন দ্রুত স্টার্ট হবে এবং পারফরম্যান্স ভালো থাকবে।
চালকদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ:
১. কোল্ড স্টার্ট: সকালে বাইক স্টার্ট দিয়েই সাথে সাথে পিকআপ বা থ্রটল দেবেন না। অন্তত ১-২ মিনিট ইঞ্জিন আইডল অবস্থায় চালু রাখুন যাতে তেল পুরো ইঞ্জিনে ছড়িয়ে পড়ার সময় পায়।
২. তেলের রঙ পরীক্ষা: কিলোমিটার পূর্ণ না হলেও যদি দেখেন ইঞ্জিন অয়েলের রঙ অতিরিক্ত কালো হয়ে গেছে বা হাতের আঙুলে নিলে আঠালো ভাব কম লাগছে, তবে দ্রুত বদলে ফেলুন।
৩. ফিল্টার পরিবর্তন: প্রতিবার বা একবার পরপর ইঞ্জিন অয়েল বদলানোর সময় অয়েল ফিল্টারটিও পরিষ্কার করুন বা বদলে নিন।
আরও পড়ুন: শীতকালে মোটরসাইকেল চালাতে যেসব গিয়ার ব্যবহার জরুরি
সঠিক সময়ে ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করলে শুধু বাইকের আয়ু বাড়বে না, বরং জ্বালানি সাশ্রয় বা মাইলেজও ভালো পাওয়া যাবে।
এজেড

