বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর ডা. মো. জাকির হোসেন। তার ডাকনাম প্রফেসর ডা. জাকির। তিনি বগুড়ার ধুনট উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ডা. ওয়াছিম উদ্দিন আহমেদ ১৯৩৮ সালে এমসিপিএস পাস করা চিকিৎসক ছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে প্রফেসর ডা. জাকিরের অবদান অসামান্য। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়বিষয়ক গবেষণা নিয়ে। তিনি কী ধরনের কাজ করছেন, তার নিজ হাতে গড়ে তোলা হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ভিজিট করলে সেটির একটি ধারণা পাওয়া যায়।
মৃদুভাষী, সজ্জন প্রফেসর ডা. জাকির প্রচারবিমুখ মানুষ। তার মতো নম্র, বিনয়ী, হেল্পফুল, অতিথিপরায়ণ মানুষ আজকের সমাজে বিরল। মানুষের প্রতি তার অসম্ভব ফেলো ফিলিংস। আমার অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তি। দেখা হলে তার আচরণ আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে কত ধরনের কাজে নিবেদিত হতে হয়।
প্রফেসর ডা. জাকির বাংলা একাডেমির সাম্মানিক ফেলো। বাংলা একাডেমির সাম্মানিক ফেলো হচ্ছে ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান বা জ্ঞানের বিশেষ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদানের স্বীকৃতি লাভ। এ ধরনের স্বীকৃতি চিকিৎসকমহল থেকে খুবই বিরল।
প্রফেসর ডা. জাকির ৪২ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন, বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন, চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। চিকিৎসা গবেষণায় অসংখ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন এবং উচ্চ রক্তচাপের ওপর বই লিখেছেন। শ্রেণিকক্ষে চিকিৎসাবিদ্যার জটিল বিষয় অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে অত্যন্ত সহজ করে উপস্থাপন করেন তিনি। সবার জন্য তার দুয়ার খোলা।
মেডিসিনের আইকন চিকিৎসক প্রফেসর জাকির চিকিৎসাবিদ্যায় নানা ডিগ্রি লাভ ও দায়িত্ব পালন করেছেন। যেমন- MBBS, (DMC, k-37), FCPS (Medicine), MD (Internal Medicine), FACP (USA), FRCP (UK), MPH, Former Principal & Head, Department of Medicine, Rangpur Medical College, Fellow Bangla Academy, Now Principal and Head, Department of Medicine, TMSS Medical College, Bogura প্রভৃতি।
প্রফেসর ডা. জাকির বিশ্বমানের সমতুল্য উচ্চ রক্তচাপ রোগের সেরা চিকিৎসাকেন্দ্র হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রংপুরের প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি গণগ্রন্থাগার, ডা. ওয়াছিম ওয়ালেদা চিকিৎসাকেন্দ্র, ডা. ওয়াছিম ওয়ালেদা বহুমুখী কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের প্রধান তিনি। তিনি সাত ভাই-বোনের মধ্যে কনিষ্ঠ।
প্রফেসর ডা. জাকিরের বড় দুইবোন ডা. সাফিয়া ও ডা. রোকেয়া পেশায় চিকিৎসক। তার দুই সন্তান ডা. পারিসা বিনতে জাকির ও ডা. জুনায়েদ বিন জাকিরও পেশায় চিকিৎসক।
ডা. জাকির রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক সফল প্রিন্সিপাল। বর্তমানে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ, বগুড়ার প্রিন্সিপাল ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। তিনি কম খরচে, বিনা খরচে উন্নত চিকিৎসা প্রদান, সমাজসেবার জন্য বাংলা একাডেমির ফেলোসহ নানা পদক লাভ করেছেন।
প্রফেসর ডা. জাকিরের অধিকাংশ রোগীই গরিব পরিবার থেকে আসা। এদের সবাইকে তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন। অন্যদিকে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে এসে যেকোনো বয়সের রোগী অর্থাভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন না।
চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে বিরল মানবিক গুণের অধিকারী প্রফেসর ডা. জাকিরের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন পাওয়া উচিত। তাকে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা এবং জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। যোগ্য মানুষকে যথাসময়ে সম্মান দেওয়া আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের খ্যাতিমান তরুণ চিত্রকর আর. করিম মেডিসিনের এই দিকপাল চিকিৎসক প্রফেসর ডা. মো. জাকির হোসেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ এই পোট্রেট স্কেচটি এঁকেছেন। চিত্রকর আর. করিমকে আমরা সতত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাই।
লেখক: নজরুল গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক



