বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সাত দশকের বাংলা একাডেমির একাল-সেকাল

মাহফুজুর রহমান
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৭ এএম

শেয়ার করুন:

বাংলা একাডেমির একাল-সেকাল
বাংলা একাডেমি

শহুরে কোলাহল পেরিয়ে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে ঢুকলেই যেন বদলে যায় চারপাশের দৃশ্য। ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রাঙ্গণ লাখো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠলেও বছরের বাকি সময়টা অনেকটাই নীরব। কিন্তু সেই নীরবতার আড়ালেই চলে ভাষা, সাহিত্য, গবেষণা ও প্রকাশনার দীর্ঘ কর্মযজ্ঞ।

সাত দশকের বেশি সময় আগে যে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে, সময়ের সঙ্গে তার পরিধি বেড়েছে, বদলেছে কাজের ধরন। কাগজের পাণ্ডুলিপি থেকে ডিজিটাল সংরক্ষণ, সীমিত প্রকাশনা থেকে বিস্তৃত গ্রন্থ প্রকাশ, সাহিত্যিকদের আড্ডা থেকে বিশাল বইমেলা বাংলা একাডেমির পথচলায় এসেছে বহু পরিবর্তন। 

তবে প্রশ্নও আছে সময়ের সঙ্গে বাংলা একাডেমি কতটা এগিয়েছে? কী পেয়েছে, কী হারিয়েছে? আর সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় কি এখন অনেকটাই অমর একুশে বইমেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে?

ভাষার অধিকার থেকে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম

বাংলা একাডেমির জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুধু রাষ্ট্রভাষার দাবিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিকশিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাংলা ভাষার গবেষণা, উন্নয়ন ও চর্চার জন্য একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি। পুরোনো বর্ধমান হাউসকে কেন্দ্র করে শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা।

1

প্রতিষ্ঠার সময় বাংলা একাডেমির সামনে ছিল একটি বড় দায়িত্ব বাংলা ভাষাকে গবেষণার ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো, ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার ও বিকাশে কাজ করা এবং বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করা।

সেই সময়ের বাংলা একাডেমির কার্যক্রমের মধ্যে ছিল অভিধান প্রণয়ন, ভাষাতত্ত্বের গবেষণা, লোকসাহিত্য সংগ্রহ, পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, অনুবাদ ও গ্রন্থ প্রকাশ। ধীরে ধীরে এটি হয়ে ওঠে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক ঠিকানা।

সেকালের বাংলা একাডেমি: গবেষণা আর সাহিত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র

এক সময় বাংলা একাডেমি শুধু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল সাহিত্যিক, গবেষক ও ভাষাবিদদের মিলনস্থল। দেশের বরেণ্য লেখক, কবি, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়মিত আনাগোনায় মুখর থাকত প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণ।

বই প্রকাশের আগে দীর্ঘ গবেষণা, পাণ্ডুলিপি যাচাই, সম্পাদনা ও পর্যালোচনার একটি প্রক্রিয়া ছিল। বাংলা ভাষার শব্দ, বানান, ব্যাকরণ, লোকজ সংস্কৃতি কিংবা পুরোনো সাহিত্য নিয়ে যারা কাজ করতেন, তাদের কাছে বাংলা একাডেমি ছিল গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়।

গ্রন্থাগারেও ছিল গবেষকদের আনাগোনা। কেউ পুরনো বই খুঁজছেন, কেউ দুর্লভ সাময়িকী পড়ছেন, কেউ কোনো গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করছেন। বইয়ের পাতায় পাতায় তথ্য খুঁজে নেওয়ার সেই সময় ছিল ধীর, কিন্তু গভীর পাঠের সময়।

বর্তমানের মতো এক ক্লিকেই তথ্য পাওয়া যেত না। ফলে একটি গবেষণার পেছনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হতো। বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগার ও প্রকাশনাগুলো তখন গবেষকদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

সময় বদলেছে, বদলেছে বাংলা একাডেমিও

সাত দশকের বেশি সময় পর আজকের বাংলা একাডেমি আগের সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনেক দিক থেকেই আলাদা। কাজের পরিধি বেড়েছে, প্রকাশনার ধরন বদলেছে, প্রযুক্তির ব্যবহার এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

বর্তমানে বাংলা একাডেমির নাম বললেই অমর একুশে বইমেলার কথা মনে পড়ে। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সবচেয়ে বড় বইয়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি পরিণত হয় লেখক-পাঠক-প্রকাশকের মিলনস্থলে।

তবে বইমেলার বাইরেও একাডেমির নিয়মিত কার্যক্রম রয়েছে। ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক গবেষণা, অভিধান ও বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশ, সেমিনার, আলোচনা, পুরস্কার, গ্রন্থাগার কার্যক্রম এবং নানা সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সারা বছরই কাজ করে। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থেকে যায়।

2

বইমেলার বাইরে কেমন চলে বই বিক্রি?

বাংলা একাডেমির বই বিক্রির চিত্রেও রয়েছে উত্থান-পতন। বছরের সব দিন সমান বিক্রি হয় না। কোনো কোনো দিন বিক্রি নেমে আসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। আবার কোনো কোনো দিনে বিক্রি হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বই।

বাংলা একাডেমির গ্রন্থ বিক্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একেক দিন একেক রকম বই বিক্রি হয়। কোনো কোনো দিন দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বই বিক্রি হয়। আবার কোনো কোনো দিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়।

তবে বিক্রির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চমক অভিধান। সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা জানান, বাংলা একাডেমিতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ডিকশনারি বা অভিধান। এর মধ্যে বাংলা অভিধান এবং ইংলিশ-টু-বাংলা অভিধানের চাহিদা বেশি।

এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডিজিটাল যুগে যেখানে মোবাইল ফোনের একটি সার্চেই শব্দের অর্থ পাওয়া যায়, সেখানে এখনো মানুষ মুদ্রিত অভিধান কিনছেন। অর্থাৎ প্রযুক্তি তথ্য পাওয়ার পথ সহজ করলেও নির্ভরযোগ্য মুদ্রিত উৎসের প্রয়োজন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

অভিধান এখনো কেন জনপ্রিয়?

বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, বানান, শব্দের অর্থ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে অভিধানের প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, লেখক, সাংবাদিক কিংবা চাকরিপ্রার্থী—বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অভিধান ব্যবহার করেন।

বিশেষ করে বাংলা ভাষার প্রামাণ্য শব্দভান্ডার, বানান ও অর্থ জানার ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির প্রকাশিত অভিধানের প্রতি পাঠকের আস্থা দীর্ঘদিনের।

এখানে একটা পরিবর্তন অবশ্য চোখে পড়ে। আগে অভিধান ছিল অনেকের নিয়মিত পড়ার বই। এখন অভিধান বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে প্রয়োজনের সময়। অর্থাৎ অভিধান এখন আর শুধু বই নয়, অনেকের কাছে রেফারেন্স টুল। তবু বিক্রির তালিকায় অভিধানের শীর্ষে থাকা প্রমাণ করে, বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে মুদ্রিত অভিধানের প্রয়োজন এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

4

অনলাইনে যাচ্ছে বাংলা একাডেমির বই

সময় বদলের সঙ্গে বাংলা একাডেমিও এবার তার প্রকাশনাকে আরও বড় পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলা একাডেমির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘একাডেমির অনেক বই অনলাইনে দেওয়ার কাজ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো ধীরে ধীরে অনলাইনে পাওয়া যাবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠক ও গবেষক বাংলা একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা ঘরে বসেই পড়ার সুযোগ পাবেন।’

এই উদ্যোগ বাংলা একাডেমির দীর্ঘ পথচলায় নতুন একটি অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়।

এক সময় কোনো বই পড়তে হলে পাঠককে বইটি কিনতে হতো কিংবা গ্রন্থাগারে গিয়ে খুঁজতে হতো। এখন সেই বই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে গেলে একজন গবেষক দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে তা ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশেষ করে পুরনো, দুর্লভ ও গবেষণামূলক বই অনলাইনে সহজলভ্য হলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সেকালের পাঠাগার, একালের ডিজিটাল পাঠ

বাংলা একাডেমির একাল-সেকালের সবচেয়ে বড় পার্থক্যগুলোর একটি দেখা যায় পাঠাভ্যাসে। সেকালে গবেষককে বইয়ের তাক ঘেঁটে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজতে হতো। একটি তথ্যের জন্য কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন লাইব্রেরিতে কাটাতে হতো। পুরনো সাময়িকী, পাণ্ডুলিপি কিংবা দুর্লভ বই খুঁজে বের করাও ছিল গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এখন তথ্যপ্রযুক্তি সেই প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করেছে। একটি বই ডিজিটাল হলে তার ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকে না। একজন গবেষক ঢাকায় না থেকেও সেটি ব্যবহার করতে পারেন।

তবে এর সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও এসেছে। দ্রুত তথ্য পাওয়ার অভ্যাস অনেক সময় গভীর পাঠের অভ্যাসকে দুর্বল করছে। দীর্ঘ গবেষণার পরিবর্তে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের প্রবণতা বাড়ছে।

বাংলা একাডেমির অতীত নিয়ে কথা উঠলে প্রবীণদের স্মৃতিতে ফিরে আসে সাহিত্যিক আড্ডা, দীর্ঘ আলোচনা, গবেষণার পরিবেশ এবং লেখক-গবেষকদের নিয়মিত আনাগোনা।

সময়ের সঙ্গে সেই পরিবেশের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন সাহিত্যিক যোগাযোগের নতুন জায়গা তৈরি করেছে।

আগে সাহিত্যিকদের দেখা-সাক্ষাৎ অনেকটাই নির্ভর করত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আড্ডার ওপর। এখন যোগাযোগের মাধ্যম বেড়েছে, কিন্তু সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্যিক আড্ডার গুরুত্বও কিছুটা কমেছে। এটি কেবল বাংলা একাডেমির সমস্যা নয়; প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে পুরো সমাজের সাংস্কৃতিক আচরণই বদলে গেছে। অন্যদিকে অর্জনের তালিকাও দীর্ঘ।

বাংলা একাডেমি সাত দশকের বেশি সময়ে বিপুলসংখ্যক বই প্রকাশ করেছে। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি, লোকসাহিত্য ও গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকাশনা তৈরি করেছে। অভিধান ও বিশ্বকোষ প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অমর একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে বাংলা একাডেমির সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো— বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। ভাষা নিয়ে গবেষণা, সাহিত্য নিয়ে আলোচনা এবং বাংলা ভাষার বই প্রকাশকে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় পরিণত করার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ডিজিটাল যুগে নতুন সম্ভাবনা

অনলাইনে বই দেওয়ার উদ্যোগ সেই জায়গায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলা একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ বই যদি সহজে অনলাইনে পাওয়া যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির পাঠক শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক থাকবে না। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থী, গবেষক ও পাঠকরাও এর প্রকাশনা ব্যবহার করতে পারবেন। এতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে শুধু বই অনলাইনে তুলে দিলেই হবে না। পুরোনো বইয়ের মানসম্মত ডিজিটাইজেশন, সার্চ সুবিধা, বইয়ের বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস এবং গবেষকদের জন্য সহজ ব্যবহারযোগ্য প্ল্যাটফর্মও প্রয়োজন।

5

নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দূরত্ব কমানো জরুরি

বাংলা একাডেমির সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ তরুণ প্রজন্ম। বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ বই পড়ছে মোবাইল ও কম্পিউটারে। তারা দ্রুত তথ্য চায়, সহজ ভাষায় কনটেন্ট চায় এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বেশি সময় কাটায়।

এই প্রজন্মকে বাংলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত করতে হলে শুধু প্রচলিত অনুষ্ঠান যথেষ্ট নয়। বাংলা ভাষার ইতিহাস, অভিধান, গবেষণা, দুর্লভ বই ও সাহিত্যকে তরুণদের উপযোগী ডিজিটাল কনটেন্টে রূপান্তর করতে হবে।

একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগার ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগও বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলা একাডেমির সাত দশকের ইতিহাস আসলে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও একটি প্রতিচ্ছবি।

এক সময় পাণ্ডুলিপি, অভিধান আর মুদ্রিত বই ছিল জ্ঞানচর্চার প্রধান মাধ্যম। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল আর্কাইভ, অনলাইন বই ও প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা। একাডেমির প্রাঙ্গণে সাহিত্যিকদের আড্ডা ছিল সাংস্কৃতিক জীবনের বড় অংশ। এখন সেই আড্ডার পাশাপাশি এসেছে বইমেলা, সেমিনার, প্রকাশনা ও ডিজিটাল উদ্যোগ।

এক সময় পাঠককে বইয়ের কাছে যেতে হতো। এখন বইকেও পাঠকের কাছে যেতে হবে—মোবাইল, কম্পিউটার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। এই পরিবর্তনকে গ্রহণ করেই বাংলা একাডেমিকে এগিয়ে যেতে হবে।

কারণ বাংলা একাডেমির গুরুত্ব শুধু তার পুরোনো ভবনে নয়, শুধু অমর একুশে বইমেলার ভিড়েও নয়। এর আসল শক্তি ছড়িয়ে আছে বাংলা ভাষার শব্দে, গবেষণার পাতায়, প্রকাশিত বইয়ে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে।

সাত দশকে অনেক কিছু বদলেছে। বদলেছে সময়, প্রযুক্তি, পাঠক এবং পাঠের ধরন। কিন্তু বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে ধারণ করার যে দায়িত্ব নিয়ে বাংলা একাডেমির জন্ম হয়েছিল, সেই দায়িত্ব আজও বহমান।

সেকালের বাংলা একাডেমি ছিল ভাষা ও সাহিত্যচর্চার প্রতিষ্ঠান; একালের বাংলা একাডেমিকে সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রযুক্তি ও নতুন প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। তাহলেই সাত দশকের এই প্রতিষ্ঠান শুধু অতীতের স্মারক হয়ে থাকবে না, ভবিষ্যতের বাংলা ভাষারও অন্যতম প্রধান ঠিকানা হয়ে উঠবে।

এম/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর