শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে মননশীল সমাজ গড়ার আহ্বান মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে মননশীল সমাজ গড়ার আহ্বান মন্ত্রীর

অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি মানুষের মননশীলতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিয়ে সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষবরণ, গুণীজন সংবর্ধনা, আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন পরিমাপ করা যায় না। মানুষের মননশীলতা, সুসংহত নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধই টেকসই উন্নয়নের প্রকৃত মাপকাঠি।

তিনি বলেন, অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবা মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করেছে। তবে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি নৈতিকতা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচার রোধে সাংস্কৃতিক কর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংস্কৃতিচর্চা মানুষের আবেগের স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করে, ধৈর্যশীল ও সৃজনশীল করে তোলে। তরুণ প্রজন্মকে কেবল ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে নয়, বর্তমানের শক্তি হিসেবে দেখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে।

সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস হয়েছে। কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। এবারের বাজেটে তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল রাখা হয়েছে। তরুণদের গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি একসঙ্গে এগিয়ে যাবে, তরুণরা স্বপ্ন দেখবে এবং তা বাস্তবায়ন করবে, আর গুণীজনরা সম্মানিত ও নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে।

সমাজে নীরবে কাজ করে যাওয়া জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতির গুণীজনদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গুণীজনদের স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন বলেন, সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিচর্চায় উৎসাহিত করতে হবে। মেয়েদের নিরাপত্তার কথা বলে তাদের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের নিয়েই দেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর।

বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ইকবাল হোসেন ও এম্পোরিয়াম প্রপার্টিজ (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আরফাতুর রহমান আপেল।

স্বাগত বক্তব্য দেন এটিএন বাংলার উপদেষ্টা (অনুষ্ঠান ও সম্প্রচার) তাসিক আহমেদ। আরও বক্তব্য দেন লাল-সবুজ সাংস্কৃতিক একাডেমির সভাপতি সাহিদা আক্তার রেশমা এবং গ্ল্যামার মিডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুবুল হক।
অনুষ্ঠানে গ্ল্যামার মিডিয়ার সংগীতশিল্পীদের বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/এএম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর