অমর একুশে বইমেলায় এসেছে ভ্রমণসাহিত্যিক গাজী মুনছুর আজিজের নতুন ভ্রমণবই ‘নান্দনিক নেপাল’। বইটি প্রকাশ করেছে বেঙ্গলবুকস। প্রচ্ছদ ও বইনকশা করেছেন আজহার ফরহাদ।
হিমালয়ের হৃদয়ে অবস্থিত নেপালকে ঘিরেই রচিত হয়েছে বইটির প্রতিটি অধ্যায়। লেখকের বর্ণনায় নেপাল এক অপার্থিব বিস্ময়, প্রকৃতির হাতে লেখা যেন এক জীবন্ত কবিতা। তুষারচূড়ার শুভ্রতা, হাজার বছরের ইতিহাস, বহুধর্মীয় ঐতিহ্য এবং মানুষের হাস্যোজ্জ্বল মুখ, সব মিলিয়ে দেশটিকে তুলে ধরা হয়েছে নান্দনিক দৃষ্টিতে।
বিজ্ঞাপন
বইটিতে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের কথা যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে নেপালের অন্যান্য পর্বতশ্রেণির আকর্ষণ, যা প্রতিবছর অসংখ্য অভিযাত্রী ও ভ্রমণপিপাসুকে টেনে নেয় হিমালয়ের কোলে। ইতিহাস, ধর্ম, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনগাথা; বহুমাত্রিক উপস্থাপনায় নেপালকে দেখা যাবে ভিন্ন ভিন্ন রূপে।
প্রাচীন স্থাপত্য ও হারানো রাজবংশের নিদর্শনের পাশাপাশি লেখক বিশেষভাবে আলোকপাত করেছেন কাঠমান্ডুর প্রাণকেন্দ্র থামেলের উপর; যেখানে রাত যেন কখনও ঘুমায় না, আর জীবন থেমে থাকে না এক মুহূর্তও।

১১২ পৃষ্ঠার এ বইযের প্রতিটি লেখার সঙ্গে রয়েছে পৃষ্ঠাজুড়ে রঙিন আলোকচিত্র, যা পাঠককে দৃশ্যত ভ্রমণের স্বাদ দেবে। বইটির দাম ৪২০ টাকা। বেঙ্গলবুকসের স্টল নম্বর ৬১৭-৬২১।
বিজ্ঞাপন
লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক গাজী মুনছুর আজিজের বাড়ি চাঁদপুর সদরের নানুপুর গ্রামে। জন্ম ও বেড়ে ওঠা খুলনার দিঘলিয়ার চন্দনীমহল গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ মুনছুর গাজী, মা মরিয়ম বেগম। তার নেশা ভ্রমণ। ঘুরতে গিয়ে সেখানকার নদীর পানিতে শরীর ভেজানো তার আরেক নেশা। মাঝেমধ্যে বের হন সাইকেল অভিযানে। তার উল্লেখযোগ্য বই : রূপসী বাংলার রূপের খোঁজে; ভ্রমণের দিন; বাংলাদেশ ভ্রমণসঙ্গী; ভুটান দার্জিলিং ও অন্যান্য ভ্রমণ; অনন্য আরব; পজিটিভ বাংলাদেশ; ফাদার মারিনো রিগন; ৭১-এর খণ্ডচিত্র; অজানা অজন্তা; হজ ও ওমরাহ গাইড; পাখির খোঁজে বাংলাজুড়ে। সম্পাদনা করছেন ছড়াবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘ঈদ উৎসব’।
এভারেস্টজয়ী প্রয়াত বন্ধু সজল খালেদ স্মরণে প্রতি বছর কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে একক ম্যারাথন করেন। এ ছাড়া সজল স্মরণে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প অভিযান করেছেন তিনি। ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই সবুজ বিশ্ব গড়তে চাই’ স্লোগান নিয়ে গত বছর ১৩ জুন তিনি বেস ক্যাম্প (৫,৩৬৪ মিটার) পৌঁছান। তিনি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সদস্য। পরিবেশ সচেতনতায় গাছ লাগানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও করে থাকেন। ২০০১ সালে চাঁদপুরে প্রতিষ্ঠা করেন মুনছুর গাজী ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে শিক্ষাবৃত্তি, বই বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পাঠাগার পরিচালনা, ইলিশ আড্ডাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এজেড

