images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

নেতৃত্ব হারানোর দ্বারপ্রান্তে ২৭ কোটির পন্ত

স্পোর্টস ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ০১:১২ পিএম

২০২৫ সালের আইপিএল-এ সপ্তম স্থানে শেষ করার পর, চলতি ২০২৬ মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানির দুটি দলের মধ্যে থেকে লিগ শেষ করেছে লক্ষ্ণৌ। টানা দুই মৌসুমে এমন বিপর্যয়কর পারফরম্যান্সের পর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ড্রেসিংরুমে এখন নেতৃত্ব পুনর্গঠন এর জোর হাওয়া বইছে। দলের গ্লোবাল ডিরেক্টর অব ক্রিকেট টম মুডি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী মৌসুমে হয়তো আর অধিনায়কের দায়িত্বে দেখা যাবে না ঋষভ পন্তকে।

পাঞ্জাব কিংসের কাছে মৌসুমের শেষ ম্যাচটি হারার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে টম মুডি লক্ষ্ণৌয়ের অধিনায়কত্ব নিয়ে তার চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পন্তের অধীনে লক্ষ্ণৌ এ পর্যন্ত ২৮টি ম্যাচ খেলে মাত্র ১০টিতে জয় পেয়েছে, বিপরীতে হেরেছে ১৮টি ম্যাচে। 

মুডি বলেন, "অধিনায়কত্ব করাটা পন্তের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল এবং দলের ফলাফলই তার প্রমাণ দিচ্ছে। আমাদের এখন ভেবে দেখতে হবে যে, অধিনায়কত্বের এই বাড়তি চাপটাই ব্যাট হাতে তার অফ-ফর্মের জন্য দায়ী কি না। আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজির মান অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারিনি, তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নেতৃত্বে বড় ধরণের পরিবর্তন আনার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি।"

২০১৮ ও ২০১৯ সালের আইপিএল-এ দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে যথাক্রমে ১৭৩ এবং ১৬২-র বিধ্বংসী স্ট্রাইক রেটে রান পাহাড় গড়া পন্ত লক্ষ্ণৌয়ের জার্সিতে একেবারেই চেনা ছন্দে ছিলেন না। এলএসজি-র হয়ে দুই মরশুমে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৫৮১ রান, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল সাধারণ মানের (১৩৫.৭৪)। 

পন্তের এই পারফরম্যান্স তার ক্যারিয়ারের সামগ্রিক রেকর্ডের চেয়েও বেশ নিচে। চলতি আসর চলাকালীন পন্ত নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘লিডারশিপ গ্রুপে’ অতিরিক্ত মানুষের হস্তক্ষেপ তার কাজে সমস্যা তৈরি করছে। পন্তের এমন পারফরম্যান্স ও আচরণ নিয়ে দলের প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারও তার তীব্র হতাশা লুকিয়ে রাখেননি।

টম মুডি অবশ্য এককভাবে পন্তকে বলির পাঁঠা বানাতে রাজি নন। তিনি বলেন, "এই ব্যর্থতার দায় আমাদের সবার। এখন কারও দিকে আঙুল তোলার সময় নয়, বরং শান্ত মাথায় ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সময়।" তবে ক্রিকেট মহলের ধারণা, পন্তের অধিনায়কত্ব হারানোর বিষয়টি এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। আর এমনটা হলে লক্ষ্ণৌ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে আরও একজন হাই-প্রোফাইল অধিনায়কের বিদায় ঘটবে। 

এর আগে দলের প্রথম তিন আসরের অধিনায়ক কেএল রাহুলও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে দল ছেড়েছিলেন এবং বিদায়বেলায় বলেছিলেন, তিনি লক্ষ্ণৌয়ের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ ছেড়ে আরও ‘হালকা ও চাপমুক্ত’ কোনো দলের হয়ে খেলতে চান। রাহুলের পর এবার পন্তের এই সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় লক্ষ্ণৌয়ের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকেই ক্রিকেট বিশ্বের সামনে আবারও প্রকাশ করে দিল