images

ইসলাম

‘চার বিয়ে সুন্নত নয়, কঠোর শর্তসাপেক্ষে জায়েজ’

ধর্ম ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

চার বিয়ে করা সুন্নত নয়; এটি কঠোর শর্তসাপেক্ষে ইসলামে বৈধ একটি বিধান মাত্র। এই কথা বলেছেন আলেম, লেখক ও গবেষক মাওলানা তাহমিদুল মাওলা। সাম্প্রতিক এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, ইসলাম একাধিক বিয়েতে উৎসাহ দেয়নি; বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণসাপেক্ষে এর অনুমতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে চার স্ত্রী রাখা সুন্নত নয়। সুন্নত বলতে এমন কাজকে বোঝানো হয়, যা করতে ইসলামে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং করলে সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু একাধিক বিয়ের বিষয়টি সে ধরনের নয়; এটি শর্তসাপেক্ষে জায়েজ।’

একাধিক শর্তের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসলামি শরিয়তে একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষা করা অপরিহার্য। কোনো ব্যক্তি এক স্ত্রীর কাছে যত দিন অবস্থান করবেন, অন্য স্ত্রীর কাছেও সমপরিমাণ সময় দিতে হবে। নতুন বিয়ের ক্ষেত্রেও এই বিধানে কোনো ছাড় নেই। তিনি বলেন, ‘কারও দুই স্ত্রী থাকলে এবং তিনি তৃতীয় বিয়ে করলে নতুন স্ত্রীকে যদি ৭ দিন সময় দেওয়া হয়, তাহলে অন্য দুই স্ত্রীকেও পরবর্তীতে সমান সময় দিতে হবে।’

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি: শরিয়তের বিধান ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি

এ প্রসঙ্গে তিনি মহানবী (স.)-এর জীবনের এক হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। বুখারি শরিফের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) মৃত্যুশয্যায় থেকেও স্ত্রীদের মাঝে পালাক্রম বজায় রেখেছিলেন। বারবার জানতে চাইতেন- ‘আইনি আনা গাদান’ (আগামীকাল আমি কার ঘরে থাকব?); আর বলতেন- ‘ইউরিদু মা আয়িশাহ’ (তিনি আয়েশার কাছে যেতে চান)। তাঁর মনে হয়তো আয়েশা (রা.)-এর ঘরে যাওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা ছিল, অথবা হয়তো তিনি জানতেন সেখানেই তাঁর শেষ নিঃশ্বাস পড়বে। তবু জীবনের শেষ মুহূর্তেও তিনি অন্য স্ত্রীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে চাননি। পরে অন্য স্ত্রীরা নবীজির অবস্থা বুঝে স্বেচ্ছায় নিজেদের পালা ছেড়ে দিলে তাঁকে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে নেওয়া হয়।

তাহমিদুল মাওলা আরও উল্লেখ করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন- ‘হে আল্লাহ! আমি আমার সাধ্যের মধ্যে সমতা রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু অন্তরের ঝোঁক যা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, সেজন্য আমাকে দায়ী করবেন না।’

এমনকি সফরে যাওয়ার সময়ও তিনি ইচ্ছামতো কাউকে বেছে নিতেন না; লটারির মাধ্যমে সঙ্গী নির্ধারণ করতেন- যাতে কারো মনে বিন্দুমাত্র কষ্ট না থাকে।