images

ইসলাম

কেয়ামতের আগে জেনা-ব্যভিচার যেভাবে বাড়বে

ধর্ম ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৩, ০৬:৩৫ পিএম

ইসলামে ব্যভিচার মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এই কাজটি হারাম ঘোষণা করলেও বর্তমান সমাজে রিলেশনশিপ বা রোমান্স নামে অবাধে চলছে এই গুনাহের কাজ। নবীজি (স.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, কেয়ামত যত নিকটে আসবে, এই গুনাহ ততই ছড়িয়ে পড়বে।

আজকের সমাজে জেনা-ব্যভিচার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পর্দার বিধান মেনে চলছে না অধিকাংশ নারী। পুরুষও চোখের হেফাজত করছে না। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে, অফিস-আদালতে, রাস্তা-ঘাঁটে, বাড়িতে, গাড়িতে, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে, এমনকি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেও খোলামেলা চালচলন স্বাভাবিক বিষয়ে রূপ নিয়েছে। পত্র-পত্রিকায় দেখা যায়, আবাসিক হোটেল কিংবা বিউটি পার্লারে বিভিন্ন বৈধ ব্যবসার আড়ালেও এই অবৈধ কার্যকলাপ চলছে। অনেক দেশে সরকারিভাবে ব্যভিচারের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। মুসলমানরা শরিয়তের নির্দেশনা না মেনে অমুসলিমদের বিয়ে করছে। মুসলিম স্বামি-স্ত্রীর মধ্যে তালাক সংঘটিত হওয়ার পরও নানা বাহানায় আবারও ঘর-সংসার করছে। সবই জেনাহের ভয়াবহ রূপ। সবকিছু মিলিয়ে এ যেন নবীজির (স.) ভবিষ্যদ্বাণীরই বহিঃপ্রকাশ। কেয়ামতের আগে উম্মতে মুহাম্মদির মধ্যে এই পাপটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। 

নবী (স.) বলেন- إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَثْبُتَ الْجَهْلُ وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا ‘নিশ্চয়ই কেয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং মানুষের মাঝে অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে, মদ্যপান ছড়িয়ে পড়বে এবং মুসলমানেরা ব্যভিচারে লিপ্ত হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৮০)

হাদিস শরিফে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আমার উম্মতের একটি দল জেনাকে হালাল মনে করবে।’ (দ্র. সহিহ বুখারি: ৫৫৯০)

শেষ যুগের নারীদের সম্পর্কে এক হাদিসে এসেছে, ‘...এমন এক শ্রেণির মহিলা, যারা (এমন নগ্ন) পোশাক পরবে যে, উলঙ্গ থাকবে, (পর পুরুষকে) নিজেদের প্রতি আকর্ষণ করবে ও নিজেরাও (পর পুরুষের প্রতি) আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা হবে উটের হেলে যাওয়া কুজের মতো। এ ধরনের মহিলারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার সুগন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরত্বের পথ থেকে পাওয়া যাবে।’ (মুসলিম, রিয়াজুস সালেহিন: ১৬৪১)

‘কেয়ামতের আগে শুধুমাত্র দুষ্ট লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে। তারা প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষের সামনে গাধার ন্যায় ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। তাদের উপরে কেয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে।’ (মুসলিম, কিতাবুল ফিতান)

কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, বৈধ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ব্যতীত পুরুষ ও মহিলার মধ্যকার যৌন ক্রিয়াকলাপকে জেনা বলে। বিয়ে জায়েজ—এমন নারী-পুরুষের বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক কিংবা কথাবার্তা বা খোলামেলা চালচলনও জেনার অন্তর্ভুক্ত।

রাসুল (স.)-এর একটি হাদিসের মাধ্যমে বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার করা যেতে পারে। সহিহ মুসলিম শরিফে এসেছে যে, ‘চোখের জেনা হলো দেখা, কানের জেনা শোনা, জিহ্বার জেনা বলা, হাতের জেনা ধরা, পায়ের জেনা হলো হাঁটা, মন কামনা করে আর লজ্জাস্থান তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।’ (বুখারি: ৬২৪৩ ও মেশকাত: ৮৬)

আর এই বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলছেন- وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا ‘তোমরা জেনার নিকটবর্তীও হয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৩২)

ইসলামি শরিয়তে ব্যভিচারের শাস্তি হলো- বিবাহিত হলে রজম করা তথা পাথর মেরে হত্যা করা আর অবিবাহিত হলে একশত বেত্রাঘাত করা। ব্যভিচার এমন গুনাহ যে, ব্যভিচার করার সময় ঈমান চলে যায়। যদিও পরে ফিরে আসে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো মানুষ যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং এটি তার মাথার ওপর মেঘখণ্ডের মতো ভাসতে থাকে। অতঃপর সে যখন তাওবা করে, তখন ঈমান আবার তার কাছে ফিরে আসে।’ (আবু দাউদ: ৪৬৯০)

তিনি আরো ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ব্যভিচার করে বা শরাব পান করে, আল্লাহ তার ওপর থেকে ঈমান ছিনিয়ে নিয়ে যান, যেভাবে মানুষ মাথার দিক দিয়ে জামা খুলে নেয়।’ (মুস্তাদরাক হাকেম: ১/২২) কেয়ামতের আগে জেনা ব্যভিচার

সহিহ বুখারিতে সামুরা বিন জুনদুব (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (স.)-এর স্বপ্নের দীর্ঘ হাদিসে কবরে ব্যভিচারীর ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি তন্দুর চুলার নিকট আগমন করলাম। যার উপরিভাগ ছিল সংকীর্ণ এবং ভিতরের অংশ ছিল প্রশস্ত। তার ভিতরে আমরা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। দেখতে পেলাম, তাতে রয়েছে কতগুলো উলঙ্গ নারী-পুরুষ। তাদের নিচের দিক থেকে আগুন প্রজ্বলিত করা হচ্ছে। অগ্নিশিখা প্রজ্ববলিত হওয়ার সাথে সাথে তারা উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করছে। রাসুল (স.) কারণ জানতে চাইলে ফেরেশতাদ্বয় বললেন- এরা হলো আপনার উম্মতের ব্যভিচারী নারী-পুরুষ।’ (সহিহ বুখারি: ৬৫৭১) কেয়ামতের আলামত জেনা

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ফেতনার যুগে ঈমান নিয়ে বাঁচার সুযোগ দান করুন। ব্যভিচারের ভয়াবহতা থেকে হেফাজত করুন। নবীজির সুন্নতকে কঠিনভাবে আঁকড়ে ধরার তাওফিক দান করুন। আমিন।