নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুন ২০২৬, ০১:৩০ এএম
ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে পুরো বিকেলজুড়ে এ ইস্যুতে উত্তপ্ত আলোচনা হয়, যেখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেয়।
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে ৬৮ বিধিতে নোটিশ উত্থাপন করে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া, অনিয়ম বন্ধ করা এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানান। তার অভিযোগ, বিগত সময়ে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের সরিয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আনা হয় এবং এখন আবারও বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।
জামায়াত আমির বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা তৈরি হলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়বে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে আমানত উত্তোলন বেড়ে যাওয়াকে আস্থাহীনতার প্রতিফলন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি দলের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন। অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং অতীতে অনিয়ম ও নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য ব্যাংক থেকে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক চিত্রে প্রভিশন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণ বেড়েছে, যা ব্যাংকের বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।

মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে গ্রাহকদের টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি করা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অতীতে এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখল করা হয়েছিল এবং এখন আবার নতুন করে নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরোনো পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়—এ ধরনের বক্তব্য ব্যবহার না করাই ভালো। তিনি বলেন, ব্যাংকের মালিকানা ও শেয়ার সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে তিনি কিছু ঋণ ও নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান।
বিতর্কে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা ব্যাংকের শেয়ার হস্তান্তর, আমানত সুরক্ষা, ঋণ বিতরণ, রাজনৈতিক অর্থায়ন এবং সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলেন। এক পর্যায়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মো. তাহের স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
জেবি