images

রাজনীতি

৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা ইসলামী আন্দোলনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ মে ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এ ধরনের তহবিলের স্বচ্ছ ও সঠিক ব্যবহার নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।

রোববার (২৪ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বন্ধ কারখানা চালু, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছেন। গভর্নর আশা প্রকাশ করেছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

তবে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। কিন্তু অতীতে প্রণোদনা তহবিল ব্যবস্থাপনায় তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে নতুন এই তহবিল নিয়েও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, বেসরকারি খাতে এমন তহবিল অপরিহার্য বলে গভর্নর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অনেকটা একজন ব্যবসায়ীর দৃষ্টিভঙ্গি বলেই মনে হয়। একই সঙ্গে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অতীতে অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিয়েছিল, যাঁদের মধ্যে ১১ জন সংসদ সদস্যও হয়েছেন। ফলে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে। অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ফিচ রেটিংস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আউটলুক স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচকে নামিয়ে আনার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইন সংশোধনের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ–এর মতো প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এমন বাস্তবতায় বড় অঙ্কের নতুন প্রণোদনা তহবিল ঘোষণায় সংশয় আরও বেড়েছে বলে মনে করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কোনো গোষ্ঠীস্বার্থের বাইরে। এ ধরনের তহবিল ব্যবস্থাপনায় সরকারি তদারকির পাশাপাশি বেসরকারি নজরদারিও নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। 

এমআর/এআর