images

জাতীয়

রাজধানীতে যেখানে-সেখানে ছাগলের হাট, লাগছে না হাসিল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৭ মে ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে রাজধানীতে গরুর-মহিষের পাশাপাশি জমে উঠেছে ছাগল বেচাকেনা। 

যাদের গরু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ নেই, তাদের বড় একটি অংশ বেছে নিচ্ছেন ছাগল। ফলে রাজধানীর স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি অলিগলি, মোড় ও পাড়া-মহল্লার যেখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে ছাগলের অস্থায়ী বাজার।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ২৭টি পশুর হাটে গরুর পাশাপাশি ছাগলেরও বেচাকেনা চলছে। তবে এসব হাটের বাইরে মালিবাগ, মৌচাক, হাতিরঝিল, বাংলামোটর, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও আজিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে ছাগল নিয়ে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছেন মৌসুমি বিক্রেতারা। এসব ছাগল কেনা-বেচায় লাগছে না হাসিল, নেই কোনো ইজারাদার।

20

সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাগল এনে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ ১০–২০টি, আবার কেউ অর্ধশতাধিক ছাগল নিয়েও অবস্থান করছেন বিভিন্ন জায়গায়। ক্রেতারা দরদাম করে চাহিদা অনুযায়ী ছাগল কিনে নিচ্ছেন।

মালিবাগ রেললাইনের পাশে ছাগল বিক্রি করতে আসা মানিকগঞ্জের বিক্রেতা জসিম জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে তারা কয়েকজন মিলে শতাধিক ছাগল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। পাড়া-মহল্লা ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন। 

তিনি বলেন, ঈদে ছাগলের চাহিদা অনেক বেশি। অনেকেই গরুর পাশাপাশি ছাগল কোরবানি দেন, আবার কেউ শুধু ছাগলই কোরবানি দেন। তাই ভালো বিক্রি হচ্ছে।

মুগদা এলাকায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী ছাগলের হাটেও ভিড় দেখা গেছে। রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, তারা একদিনেই বেশ কিছু ছাগল বিক্রি করেছেন। বাকিগুলো ঈদের আগেই বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছেন।

30

এছাড়া বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায়ও ছাগলের হাট বসেছে। সেখানে কয়েকজন বিক্রেতা ট্রাকভর্তি ছাগল এনে বিক্রি করছেন। দিনাজপুর ও রংপুর থেকে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, ১২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ছাগল বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা থাকায় বিক্রিও তুলনামূলক ভালো।

ক্রেতারাও জানান, দাম কিছুটা বেশি হলেও দরদাম করে ছাগল কিনছেন তারা। মলিবাগ রেলগেটে ছাগল কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, গরুর দাম বেশি হওয়ায় ছাগল কিনে কোরবানি দিচ্ছেন অনেকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দাম তুলনামূলক বেশি নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কেউ কেউ।

মুগদা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাতেও ছাগলের অস্থায়ী বাজার বসেছে। সেখানে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদ ঘনিয়ে আসায় বিক্রি দ্রুত বাড়ছে এবং অধিকাংশ ছাগলই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছাগল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এসব বিক্রেতার কারণে শহরের অলিগলিতেই এখন কোরবানির হাটের রূপ নিয়েছে। একদিকে চাহিদা, অন্যদিকে সীমিত সামর্থ্য—এই বাস্তবতায় অনেক পরিবারই এবার ছাগল কোরবানির দিকে ঝুঁকছে।

টিএই/এএইচ