জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৪ মে ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
অসহ্য গরমেও যেন চোখে-মুখে নেই কোনো ক্লান্তি বা কোনো বিরক্তির ছাপ, বরং সবার মুখেই বাড়ি ফেরার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েকদিন ধরেই শহরের যান্ত্রিক কোলাহল আর ব্যস্ত জীবন পেছনে ফেলে নাড়ির টানে শেকড়ে ফিরছেন মানুষ। ফলে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লেগেই আছে।

রোববার (২৪ মে) শেষ কার্যদিবসে সে ভিড় আরও বেড়েছে। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে ঘরমুখো মানষের বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে। দুপুর গড়াতে সেই চাপ বেড়ে যায় বহুগুণ।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকদিনের তুলনায় যাত্রীদের ভিড় আজ কিছুটা বাড়লেও সোমবার (২৪ মে) সেই চাপ আরও তীব্র হবে। ঈদের আগের দুই দিন তথা মঙ্গলবার ও বুধবারও ঘরমুখো মানষের স্রোত অব্যাহত থাকবে।

কন্যা লাইলা (৫) ও ছেলে লাবিব (৭) এবং স্ত্রী রুনা বেগমকে নিয়ে যশোর অভয়নগরের গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন লুৎফর রহমান। রোববার দুপুরের পর তীব্র গরমের মধ্যে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের নড়াইল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করছিলেন তারা।
কথা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী লুৎফর রহমান বলেন, ‘আজ শেষ দিনের অফিস ছিল। বাড়ি যাবো তাই আগেভাগেই অফিস শেষ করে বেরিয়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু সরকারিভাবে শেষ দিন (কার্যদিবস), সেহেতু আজ বিকেল থেকেই ব্যাপক ভিড় হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এই গরমের মধ্যেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছি।’
রুনা বেগম বলেন, ‘ছেলে-মেয়েরা বাড়ি ফেরার আনন্দে আছে। দূরের যাত্রা তো একটু কষ্ট হবেই। তবে এই কষ্ট মনে হচ্ছে না। ওরাও (ছেলে-মেয়ে) কোনো বিরক্ত করছে না।’

মা, ছোট ভাই, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গ্রামে ফিরছেন পিরোজপুর ইন্দুরকানীর চণ্ডিপুরের মুবাশ্বির হোসেন। ফুলবাড়িয়া-ঢাকা মেডিকেল সড়কের ওপর ওয়েলকাম বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। ভ্যাপসা গরমে সবারই হাঁসফাঁস অবস্থা। তবুও সবারই মুখে ছিল হাসি আর আনন্দ।
কথা হলে মুবাশ্বির বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানি ঈদে পরিবারের সবাই মিলে বাড়ি যাই। বছরে এই একবারই গ্রামে যাওয়া হয়। আমাদের কাছে এই যাত্রা কোনো সাধারণ যাত্রা নয়। এটা আমাদের উৎসব যাত্রা। এই যাত্রায় গরম-যানজট কোনো কিছুই আমাদের গায়ে লাগে না।’

ওয়েলকাম এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার রিয়াজ মুন্সি বলেন, ‘ভোর থেকেই আমাদের গাড়ি যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত (দুপুর সাড়ে ৩টা) ২৬-২৭টা বাস বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে।’
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকের (রোববার) টিকেট দিতে পারছি। তবে আগামীকাল থেকে কোনো টিকেট ফাঁকা নেই। সব টিকেটই বিক্রি হয়ে গিয়েছে।’

ঢাকা থেকে পিরোজপুর, ভান্ডারিয়া, কাঠালিয়া ও মঠবাড়িয়াসহ বিভিন্ন গন্তব্যে পালকি এক্সপ্রেসের বাস চলাচল করে। জানতে চাইলে পালকির ফুলবাড়িয়া কাউন্টার ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন, সকাল থেকে তাদের ২০টার মতো বাস ছেড়ে গেছে।
রেজাউল বলেন, ‘কয়েকদিনের তুলনায় আজকে চাপ বেড়েছে। এখনো কিছু কিছু টিকেট দিতে পারছি। তবে আগামীকাল থেকে যাত্রী চাপ অনেক বাড়বে। তখন টিকেট দেওয়াই কঠিন হয়ে যাবে।’

ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, সোনাপুর, মাগুরা ও বোয়ালমারী গন্তব্যে বিআরটিসি বাস চলাচল করে।
জানতে চাইলে বিআরটিসি কাউন্টার মাস্টার সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আজকে যাত্রী বাড়লেও চাপ কিছুটা স্বাভাবিকই আছে। তবে আগামীকাল (সোমবার) থেকে ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত যাত্রীদের তীব্র চাপ তৈরি হবে।’
এএম/এএইচ