images

লাইফস্টাইল

ফুসফুসে পানি জমে কেন, কমাতে করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:০১ পিএম

শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুস। নানা কারণে এর আবরণীতে পানি জমতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ফুসফুসের নিজস্ব কিছু কারণ, ফুসফুসের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু কারণ। সাধারণত টিবি, নিউমোনিয়া, ক্যানসার, ইনফার্কশন জাতীয় রোগের কারণে ফুসফুসে পানি জমতে পারে। অনেকসময় হার্ট ফেইলিউর, লিভার সিরোসিস, নেফ্রোটিক সিন্ড্রম, কিডনি ফেইলিউর, ম্যালনিউট্রিশন, পেরিকার্ডাইটিস, লিভার অ্যাবসেসের কারণেও ফুসফুসের প্লুরায় পানি জমতে পারে।

ফুসফুসে পানি জমার কারণ: 

নানা কারণে ফুসফুসে পানি জমতে পারে। এর সম্ভাব্য কিছু কারণ চলুন জানা যাক- 

সংক্রমণজনিত প্রদাহ: নিউমোনিয়ার কারণে ফুসফুস এবং এর চারপাশের টিস্যুতে প্রদাহ দেখা দেয়। ফলে প্লুরাল ক্যাভিটিতে পানি জমতে পারে।

tired

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: বয়স্ক বা দুর্বল রোগীদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল থাকে। তাই তাদের ফুসফুসে পানি জমার আশঙ্কা বেশি থাকে। 

চিকিৎসায় বিলম্ব: নিউমনিয়য় দ্রুত চিকিৎসা জরুরি। অনেকে এ বিষয়ে অবহেলা করেন। আবার অনেকে বুঝতে পারেন না, আসলেই রোগটি নিউমনিয়া কি না। ফলে চিকিৎসা করতে দেরি হয়ে যায়। সময়মতো নিউমোনিয়ার চিকিৎসা না নিলে জটিলতা বাড়তে পারে। ফুসফুসে জমতে পারে পানি।

ফুসফুসে পানি জমার লক্ষণ: 

  • তীব্র বুক ব্যথা
  • শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • জ্বর ও ঠান্ডা লাগা
  • দীর্ঘস্থায়ী কাশি, কখনো কফের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে
  • শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি

lungs1

ফুসফুসে পানি জমলে করণীয়:

ফুসফুসে পানি জমার লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যান। প্লুরাল এফিউশন নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—

ফুসফুসে জমে থাকা পানির অবস্থান ও পরিমাণ জানতে এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান করা যেতে পারে।

থোরাসেন্টেসিস নামের একটি প্রক্রিয়ার সাহায্যে পরীক্ষা করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় একটি সূক্ষ্ম সুসের সাহায্যে ফুসফুস থেকে তরল সংগ্রহ করা হয়। 

সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতা নির্ণয় করতে রক্ত পরীক্ষা করা যায়।

lungs2

ফুসফুসে পানি জমলে ওষুধ: 

নিউমোনিয়ার কারণ যদি ব্যাকটেরিয়া হয় তাহলে চিকিৎসক রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেন। অন্যদিকে ভাইরাসজনিত কারণে হলে অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। প্রদাহ কমাতে ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে চিকিৎসক অন্য ওষুধও দিতে পারে। 

ফুসফুস থেকে পানি বের করার পদ্ধতি: 

ফুসফুসে পানির পরিমাণ বেশি হলে চিকিৎসক প্লুরাল ক্যাভিটি থেকে পানি বের করে নিতে পারেন। এই প্রক্রিয়া সাধারণত হাসপাতালে করা হয় এবং এতে রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ফুসফুস থেকে পানি বের করার প্রধান ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো টোরোসেন্টেসিস বা প্লুরাল ড্রেনেজ। এই পদ্ধতিতে একটি সুচ ফুসফুসের আবরণের স্তরে (প্লুরাল স্পেস) প্রবেশ করিয়ে ধীরে ধীরে জমে থাকা অতিরিক্ত তরল বের করা হয়। 

lungs3

ফুসফুসে পানি দূর করার ঘরোয়া উপায়: 

কিছু ঘরোয়া উপায় কাজে লাগিয়ে ফুসফুসে পানি জমা প্রতিরোধ করা যায়। এগুলো হলো- 

বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার: 

ফুসফুসে পানি জমলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডাল, ডিম, মাছ, শাকসবজি এবং ফলমূল খেতে হবে।

সঠিক মাত্রায় পানি পান: 

যদিও ফুসফুসে পানি জমলে পানি কম খেতে বলা হয় না, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পানের পরিমাণ ঠিক করুন।

lungs4

ভ্যাকসিন গ্রহণ: 

নিউমোনিয়ার জন্য পিভি-১৩ এবং পিপিএসভি-২৩ ভ্যাকসিন নিতে পারেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন। কারণ এগুলো থেকেও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ধূমপান বন্ধ করুন: 

ধূমপান ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ফুসফুস ভালো রাখতে চাইলে ধূমপান ছাড়ুন। 

সঠিক জীবনযাপন: 

সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন, ঠান্ডা বা ধুলোময় পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন।

ফুসফুসে পানি জমা একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসা করলে এটি পুরোপুরি সেরে যায়। তাই লক্ষণ দেখা মাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

এনএম