জেলা প্রতিনিধি
১০ জুন ২০২৬, ১২:১৪ এএম
যশোরে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক কলহ, হত্যাকাণ্ড, উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে হামলা এবং রহস্যজনক মৃত্যু—সব মিলিয়ে জেলায় চরম অস্থিরতা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৮ জুন) ও মঙ্গলবার (৯ জুন) জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটে। এতে স্বামী-স্ত্রী হত্যাকাণ্ড, নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে নানাকে কুপিয়ে হত্যা, মা-সন্তানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারসহ মোট পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারন ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে মঙ্গলবার সকালে একই ঘর থেকে এক নারী ও তার দেড় বছর বয়সী শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন জনি মিয়ার স্ত্রী রেবেকা খাতুন (২৬) ও তাদের শিশু সন্তান সোহরাব হোসেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করলেও নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী জনি মিয়াকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে মণিরামপুর উপজেলার স্মরণপুর গ্রামে বখাটেদের হামলায় ইনামুল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, নাতনিকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একদল যুবক তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
আরও পড়ুন
নেত্রকোনায় এক মাসেও উদঘাটিত হয়নি শিশু জান্নাত হত্যার রহস্য
মোহাম্মদপুরে মিনিটেই শেষ হয় ছিনতাই মিশন, বাড়ছে আতঙ্ক!
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় আবু হুসাইন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকায় গৃহবিবাদে স্ত্রী সামিনা আক্তার শাম্মী (২০)-কে গলাকেটে হত্যা করেন তার স্বামী সুজন। ঘটনার পর সুজন নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক সেবনের টাকা নিয়ে দম্পতির মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
একই সময়ে যশোর শহরের পাঁচবাড়িয়া এলাকায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হামিদ বিশ্বাস (৬৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, তিনি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনারই আলাদা আলাদা তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলায় খুন, চুরি ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। তারা বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি।
প্রতিনিধি/জেবি