images

সারাদেশ

ধরলা নদীতে নিখোঁজের তিন দিন পর ছোট ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি

০৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

লালমনিরহাটের ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া আপন দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিখোঁজের দুই দিন পর বড় ভাই সাব্বির হোসেন এবং তিন দিন পর আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ছোট ভাই সাওন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় দুই ভাই।

নিহতরা হলো মোগলহাট টেম্পো স্ট্যান্ড এলাকার হেলাল হোসেন ও সেলিনা বেগম দম্পতির ছেলে সাব্বির হোসেন (১৬) ও সাওন হোসেন (১৪)। সাব্বির স্থানীয় মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণি এবং সাওন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

c5aac3bd-5f8f-4fca-a91c-954d89d0e61b

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বন্ধু মেহেদীকে সঙ্গে নিয়ে ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে সাব্বির ও সাওন। একপর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোতে পড়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। দুই ভাইকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের বন্ধু মেহেদীও পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তীরে থাকা এক জেলে দ্রুত নদীতে নেমে তাকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে সাব্বির ও সাওন স্রোতের টানে নিখোঁজ হয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, মোগলহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে রংপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে অভিযানে যোগ দেয়। প্রথম দিনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

4aa90be5-df4c-415d-9126-3c9126f0ca94

উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় দিন সোমবার নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বড় ভাই সাব্বির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার সকালে একই নদী থেকে ছোট ভাই সাওন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল।

লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রোকন উজ্জামান জানান, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে টানা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সোমবার বড় ভাই সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে ছোট ভাই সাওনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।

d0db59dd-eb79-4ed0-9cd9-82db0b1df2e6

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। একই পরিবারের দুই সন্তানকে হারানোর ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও গভীর শোক বিরাজ করছে।

প্রতিনিধি/এসএস