images

সারাদেশ

দোহারে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

উপজেলা প্রতিনিধি

০৯ জুন ২০২৬, ১১:২৪ এএম

ঢাকার দোহার উপজেলার জামালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। প্রায় ৪ বছর ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে যায়, উপজেলার জামালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের ৪টি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে। ২০০১ সালে শিক্ষা অধিদফতরের অর্থায়নে নির্মিত ভবনটি নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ছাদ থেকে পলেস্থা ও সুরকি খসে পড়তে থাকে। তবে গত ৪ বছর ধরে ভবনের দুরবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পরছে পলেস্তাসহ ইট-সুড়কি। অনেক জায়গায় পলেস্তা ধসে পরে রড বের হয়ে গেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস ভবনটিকে ব্যবহারের অনুপযোগী মনে করায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।

কিন্তু অন্য আরেকটি ভবনে মাত্র ২টি শ্রেণিকক্ষ থাকায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরুপায় হয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। দেশে ভূমিকম্পের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নিতে অনীহার কথা জানায় খোদ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ৩ কক্ষের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ১ একটি কক্ষ ও আরেকটি কক্ষ সকালে শিপটে শিশু শ্রেণির ও দুপুরের শিপটে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছে। শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের মেঝেতে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশনা থাকায় দুপুরের শিপটে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মেঝেতে পা লেপটে বসে ৪ ঘণ্টা ক্লাস করতে হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অনেক ক্ষুব্ধ। 

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টেবিলে বসে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই ছাদ থেকে পলেস্তা টেবিলের সামনে পরলে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান।

দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাজমা বেগম জানান, ভবনটি অনেক বছর ধরেই সরকার পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। ভবনের কারণে স্কুলের আশেপাশের মানুষজন তাদের ছেলে মেয়েদের ভর্তি না করানোয় ছাত্রছাত্রী অনেক কমে গেছে। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত যেন এ স্কুলের ভবন করে দেয়। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনারা বেগম জানান, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভবন না পাওয়ায় একরকম ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস আমাদেরকে যদি বিকল্প ব্যবস্থা করে দেয় আমাদের ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় বলে মনে করি। 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুস শিহার জানান, ভবনটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা নতুন ভবনের জন্য আবেদন করেছি। সিরিয়াল মেইনটেইন করার কারণে ভবন আসতে দেরি হচ্ছে। তবে আমি আগামী সপ্তাহে শিক্ষা অধিদফতরে গিয়ে বিদ্যালয়ের জন্য তদবির করবো। 

প্রতিনিধি/ এজে