images

সারাদেশ

অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে স্বপনের ঈদ আনন্দ

২৭ মে ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

ঈদের আনন্দে যখন পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনেরা উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন, তখন সালাউদ্দিন আহমেদ স্বপনের সময় কাটে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনে।

তিন মেয়ের বাবা স্বপনের সংসারে বৃদ্ধা মা আছেন, কিন্তু বাবা নেই। ফলে পরিবারের পুরো দায়িত্ব এখন তার কাঁধেই। জীবনের হিসাব কখনোই সহজ ছিল না তার। অভাবের সংসারে অনেক স্বপ্ন ভেঙে গেলেও তিন মেয়েকে নিয়ে একটি সুখের পৃথিবী গড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রতিদিন।

তিন বছর আগে অ্যাম্বুলেন্স চালকের পেশায় যোগ দেন স্বপন। আর এই তিন বছরে ঈদের আনন্দ যেন ধীরে ধীরে তার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। মানুষ যখন ঈদের সকালে নতুন পোশাক পরে পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন স্বপনের দিন শুরু হয় হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে। হাতে গাড়ির চাবি আর চোখে অপেক্ষা কখন আসবে ডাক। ফোনটা বাজলেই তাকে ছুটতে হবে কোনো রোগীকে নিয়ে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কিংবা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা কারও শেষ ভরসা হয়ে। এই তিন বছরে মাত্র একটি ঈদে কয়েক ঘণ্টার জন্য পরিবারের কাছে যেতে পেরেছিলেন তিনি।

অন্যান্য পরিবারের শিশুদের মনে প্রশ্ন থাকে কবে নতুন জামা পাবে, কোথায় ঘুরতে যাবে। কিন্তু স্বপনের ছোট মেয়েদের আকুতি থাকে, ‘আব্বু, এবার ঈদে তুমি আমাদের সাথে থাকবে তো?’ সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেন না স্বপন। কারণ, দায়িত্বের কাছে অনেক সময় হার মানে একজন বাবার ভালোবাসা।

আরও পড়ুন—

‘কেমন কাটে আপনার ঈদের দিন?’ জানতে চাইলে মৃদু কণ্ঠে স্বপন বলেন, ‘তখন ভাবি সবাই পরিবারের সাথে ঈদ করছে, একসঙ্গে বসে হয়তো খাবার খাচ্ছে। এসব ভেবে কোনো হাসপাতালের সামনে বসে চুপচাপ মেয়েদের ছবি দেখি আর কান্না করি। এছাড়া তো কিছু করার নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে ফোন দিলেই শুধু মেয়েরা বলে আব্বু তুমি কোথায়, কখন আসবে। আমার কোনো উত্তর দেওয়ার মতো ভাষা থাকে না। তাই ব্যস্ততা দেখাই। একেবারে বিকেল বেলা কল দিই অথবা জরুরি ছুটি নিয়ে এক-দুই ঘণ্টার জন্য বাড়িতে যাই। তখন আমার মেয়েরা যে কী খুশি হয়, তা বলার মতো না।’

কাজের ফাঁকে মেয়েরা যখন কল দেয়, তখন লাউড স্পিকার অন করলে ওপাশ থেকে ভেসে আসে ‘আব্বু তুমি কখন আসবা?’ কিন্তু তার তাৎক্ষণিক বাড়ি ফেরা হয় না। কারণ, কোনো এক মুমূর্ষু মানুষ তখন অপেক্ষা করছে একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য, আর সেই অ্যাম্বুলেন্সের স্টিয়ারিংয়ে বসে আছেন সালাউদ্দিন আহমেদ স্বপন।

মানুষের ঈদ যখন আনন্দে কাটে, কিছু মানুষের ঈদ তখন কাটে দায়িত্ব পালনে। তবুও তাঁরা থামেন না; কারণ তাদের কাছে এই পেশা শুধু চাকরি নয়, বরং কারও জীবনের শেষ ভরসা।

 প্রতিনিধি/একেবি