জেলা প্রতিনিধি
২৪ মে ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
বরগুনার আমতলীতে আপন খালুর বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক এতিম মাদরাসা শিক্ষার্থীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে ধর্ষক আপন খালু আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।
ধর্ষক আলমগীর হোসেন (৪০) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রীর সহকারী। সে কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় রোববার সকালে ভুক্তভোগীর নানি বাদী হয়ে আমতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জামাতা আলমগীর হোসেনকে আসামি করে মামলা করেছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। গত রোজার ঈদে স্ত্রীকে ঢাকায় রেখে সে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে আসে। শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে সে শনিবার রাত পর্যন্ত শ্বশুর বাড়িতেই অবস্থান করে আসছে। শ্বশুর বাড়িতে অবস্থানের সময় তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে মা হারা এতিম আপন ভায়রার মেয়ে নানা বাড়িতে থাকা ওই মাদরাসা শিক্ষার্থীর ওপর। সুযোগ খুঁজতে থাকে লম্পট আলমগীর হোসেন। ঘটনার দিন ১৮ মে সোমবার সকাল ১০টার সময় মেয়েটির নানা নানি মাঠে কাজ করতে যায়। এই সুযোগে আলমগীর হোসেন মেয়েটিকে ঘরে একা পেয়ে প্রথমে জাপটে ধরে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে হাত পা মুখ বেঁধে ভায়রার মেয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীকে (১৪) জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

মেয়েটির নানি বাড়িতে আসার পর ঘটনা তাকে জানায়। নিজেদের পরিবারের মধ্যে এ ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি লোক লজ্জার ভয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়। শনিবার বিকেলে মেয়েটিকে বাড়িতে একা পেয়ে খালু আলমগীর হোসেন ওই শিক্ষার্থীকে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টা করে। নানা নানি এ ঘটনা জানার পর পুলিশকে খবর দেয়। আমতলী থানা পুলিশ শনিবার রাতেই আলমগীর হোসেনকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় রবিবার সকালে মেয়েটির নানি বাদী হয়ে ধর্ষক জামাতা মো. আলমগীর হোসেনকে আসামি করে আমতলী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।
আরও পড়ুন
ধর্ষিতা মেয়েটি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার দুই বছর বয়সে মা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমি নানার বাড়িতে থেকে মাদরাসায় পড়াশোনা করছি। আমি বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আমার আপন খালু আমার নানা বাড়ি বেড়াতে এসে গত ১৮ মে আমাকে খুনের ভয় দেখিয়ে হাত পা মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি আমি আমার নানিকে জানাই। প্রথমবার তারা তাকে মাফ করে দেয়। পরের বার শনিবার রাতে যখন সে আমাকে আবার ধর্ষণের চেষ্টা করলে আমি আমার নানা নানিকে জানাই। তারা পুলিশকে জানিয়ে মামলা করে। আমি এ ঘটনা বিচার চাই।
মেয়েটির নানি জানান, আমার জামাই আমার নাতনিকে ধর্ষণ করেছে। আমি বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। আমি এই ঘটনার ন্যায্য বিচার চাই।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদৎ হাসনাইন পারভেজ জানান, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস