images

সারাদেশ

ভোলায় বাড়ছে হামের প্রকোপ, হাসপাতালে ভর্তি অর্ধশতাধিক শিশু

জেলা প্রতিনিধি

২৪ মে ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

ভোলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ নিয়ে শিশুদের ভিড় বাড়ছে ভোলা সদর হাসপাতালে। শয্যা সংকটে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুয়েই নিতে হচ্ছে চিকিৎসা। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তার স্বজনরা।

রোববার (২৪ মে) সকাল থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ জন শিশু। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৬১জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরমধ্যে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪ জনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে চিকিৎসক। এছাড়াও চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সরেজমিনে ভোলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় হাম আইসোলেশন খোলা হয়েছে। যেখানে হাম রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ১৮টি বেডের বিপরীতে ৬১ জন শিশু রোগী ভর্তি রয়েছেন। শয্যা সংকটে অধিকাংশ শিশুরা মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজনরা।

aad308b9-72fe-40af-9e07-fa9fc0a1841e

ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রোগী রুবাইদার মা তানিয়া বেগম বেগম বলেন, গত ৪ দিন আগে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হন। দুই দিন পর চিকিৎসকরা শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত করেন। এরপর তাকে হাম ইউনিটে পাঠানো হয়। প্রথমে মেঝেতে থাকলে ১ দিন আগে সিট পেয়েছেন তিনি।

তজুমদ্দিন থেকে আসা শিশু রোগী নুসাইবা মা খাদিজা বেগম বলেন, তজুমদ্দিনে ডাক্তার দেখানোর পর হাম ধরা পড়ে। পরে সেখান থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু সিট না পেয়ে আজ ৩ দিন মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে তার শিশু আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তিনি।

4a2be3fe-d9ec-4dd1-a03d-b5e66aabc471

এদিকে, হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা। ভোলা সদর হাসপাতালই নয়, জেলার অন্যন্যা উপজেলাগুলোতেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা।

আরও পড়ুন

হাম উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু

হামের প্রকোপ ঠেকাতে অভিভাবকদের সচেতনতা হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। হাম উপসর্গ দেখা দিলে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না হলে ভোলায় হামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

1bcf4b83-0d84-41d5-9e6f-c4ba4db1fb85

এ বিষয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তৈয়্যবুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, হাম উপসর্গ নিয়ে এই পর্যন্ত ৪ শতাধিক শিশু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ৩৪০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ২ জন রোগী মারা গেছেন। বর্তমানে ৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

তিনি আরও বলেন, ভোলায় হামের প্রকোপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে অভিভাবকরা সচেতন হলে এর প্রকোপ আরও কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও হাসপাতালে আলাদা করে বেড সংকুলান না থাকায় অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীর তীব্র চাপ।

প্রতিনিধি/এসএস