শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

চলনবিলের বিষমুক্ত শুঁটকি ভারতসহ ১২ দেশে রপ্তানি

মো. লিটন হোসেন লিমন
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২২, ০৮:৫১ এএম

শেয়ার করুন:

চলনবিলের বিষমুক্ত শুঁটকি ভারতসহ ১২ দেশে রপ্তানি

নাটোর চলনবিলের বিষমুক্ত দেশীয় শুঁটকি মাছ ভারতসহ ১২ দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের মিঠা পানির দেশীয় শুঁটকি মাছ সুস্বাদ হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে। এতে করে স্থানীয় অনেক যুবক শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। অপরদিকে, স্থানীয় হাজারো নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে চলনবিলের সিংড়া উপজেলার নিংগইন নামক স্থান বাঁশের ছাউনিতে বসানো হয়েছে শুঁটকির চাতাল। চাতালে মিঠা পানির বিভিন্ন ধরনের দেশীয় মাছের শুঁটকি উৎপাদন করতে দেখা যায়। মাছ শুকাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন নারী-পুরুষরা। অন্যদিকে, নারীরা মাছ বাছাই করেছেন, আবার কেউ কেউ মাছ পরিষ্কার করছেন। এসব শুঁটকি শুকানো চাতালে প্রায় দেড় হাজার নারী-পুরুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।চলনবিলের পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরার ধুম পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে চাতালগুলোতে বেড়ে যায় ব্যস্ততা।


বিজ্ঞাপন


চলনবিলের বিষমুক্ত দেশীয় শুঁটকি মাছ ভারতসহ ১২ দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের মিঠা পানির দেশীয় শুঁটকি মাছ সুস্বাদ হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে। এতে করে স্থানীয় অনেক যুবক শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। অপরদিকে, স্থানীয় হাজারো নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।

sutki

নাটোরের বেশ কিছু উপজেলার প্রায় ৪৭ স্থানে দেশীয় প্রজাতির মাছের শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। বিশেষ করে টাকি, চিংড়ি, শোল, টেংরা, গুচি, পাতাসি, মোলা, কাকিলা, পুঁটি, বোয়াল, বাতাসী, চেলা, মলা, ঢেলা,, চিতল, শিলং, রুই ও কাতলাসহ দেশীয় মাছের শুঁটকি তৈরি করা হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত এসব শুঁটকি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর, সৈয়দপুর রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

নাটোর জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলায় ৪৭টি চাতালে শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। গত মৌসুমে চলনবিলে ৩১৯ মেট্রিকটন এবং চলতি ৩২৯ মেট্রিকটন শুঁটকি উৎপাদন করা হয়েছে। যার মধ্যে গুরুদাসপুর, নলডাঙ্গায়, বড়াইগ্রামে ও সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুঁটকির চাতাল রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


মৎস্য বিভাগের হিসেব মতে, ৩ দশমিক ৫ কেজি কাঁচা মাছে ১ থেকে দেড় কেজি শুঁটকি উৎপাদন হয়ে থাকে। যার গড় মূল্য প্রকার ভেদে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। প্রতিমণ শুঁটকির দাম ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।

সৈয়দপুর জেলা থেকে আসা শুঁটকি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, চলনবিলের বিষমুক্ত উৎপাদিত শুঁটকি গুণে-মানে সুস্বাদু। এই এলাকার শুঁটকি ভালো চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন দেশে। প্রতি সপ্তাহে তিনি এখান থেকে ৩-৪ গাড়ি শুঁটকি নিয়ে যান সৈয়দপুরে। সেখানে বাছাইয়ের পর ভারতে রপ্তানি করা হয়।

নাটোরের বেশ কিছু উপজেলার প্রায় ৪৭ স্থানে দেশীয় প্রজাতির মাছের শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। বিশেষ করে টাকি, চিংড়ি, শোল, টেংরা, গুচি, পাতাসি, মোলা, কাকিলা, পুঁটি, বোয়াল, বাতাসী, চেলা, মলা, ঢেলা,, চিতল, শিলং, রুই ও কাতলাসহ দেশীয় মাছের শুঁটকি তৈরি করা হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত এসব শুঁটকি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর, সৈয়দপুর রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

sutki

স্থানীয় চাতাল মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, বিষমুক্ত প্রতি কেজি পুঁটি মাছের শুঁটকি পাইকারি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা মাছের শুঁটকি ৫০০ টাকা, শোল মাছের শুঁটকি ১০০০ টাকা, পাতাসি ১০০০ টাকা, গুঁচি ৯০০ টাকা, বোয়াল ৭০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ টাকা ও মোলার শুঁটকি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।

চাতালে নারী শ্রমিক আমেনা বেগম জানান, শুঁটকি চাতাল গড়ে ওঠায় তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি শুঁটকির চাতালে কাজ করে বাড়তি উপার্জন হচ্ছে। এই অর্থ সংসারের কাজে লাগছে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার খরচসহ সংসারে ব্যয় করা হচ্ছে।

নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ‘ঢাকা মেইল’কে জানান, নাটোর জেলা ৪৭টি চাতালে শুঁটকি মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। চলনবিলেন দেশীয় শুঁটকি মাছের বেশ চাহিদা রয়েছে। এসব শুঁটকি মাছ ভারতসহ বাহিরের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। সঠিক উপায়ে উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা গেলে সারা বছরই শুঁটকি মাছ বাজারজাত করা সম্ভব। উৎপাদনে আর্থিক সহায়তা বাবদ ঋণ সুবিধা, সংরক্ষণের জন্য গুদাম নির্মাণ ও সোলার ড্রয়ার দিতে পারলে বর্ষাকালে শুঁটকির পচন রোধ করা সম্ভব। এতে করে স্থানীয় জেলেরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন।

 

টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর