রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই: কৃষিমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক পণ্য রফতানির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে চাইলে মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে উৎপাদনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে হোটেল সারিনায় ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, মানুষের চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে কোনোভাবেই গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি নেই। তবে গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রধান দুটি লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান তৈরি করা।

আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করা গেলে দেশের অর্থনীতিও স্থায়ীভাবে শক্তিশালী হবে। তাই কৃষির উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিপণ্যের মান নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও টিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, সেদিকে আরও নজর দিতে হবে। মানুষ এখন নিরাপদ, সুন্দর ও মানসম্পন্ন খাদ্য চায়। খাদ্য উৎপাদনে এমন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না, যা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

মাটি, পানি, আলো-বাতাস ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাটি ও পানি দূষণ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাটি ও পানিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পানি ও মাটিতে সিসা ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি চালেও ভারী ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব উপাদান মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি কীটনাশক থেকে আসছে, তা চিহ্নিত করতে সরকার গবেষণা শুরু করেছে।

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই নদীর মিঠাপানি সেচকাজে ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমানো বা বন্ধ করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

Amin1

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু চাকরি সৃষ্টি করা নয়। কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও সরকার কাজ করছে। কৃষি খাতের তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে সরকার প্রস্তুত।

দেশি জাতের গবাদিপশুর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে থাকলেও এটি বিশ্বের অন্যতম ভালো জাত। এর উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। দেশি জাতের এসব প্রাণিসম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বক্তব্য দেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেন।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারি এবং ফিশটেকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে আধুনিক মৎস্য প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি, বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর