বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

পাটখাতে ৭ নতুন প্রযুক্তি উন্মোচন বিজেআরআই’র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

পাটখাতে ৭ নতুন প্রযুক্তি উন্মোচন বিজেআরআই’র
রাজধানীর বিজেআরআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মশালা

পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বহুমুখী ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন জোরদারে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত সাতটি নতুন কৃষি, কারিগরি ও জুট-টেক্সটাইল প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর বিজেআরআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। সভাপতিত্ব করেন বিজেআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. নার্গীস আক্তার। কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুছ ছালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সচিব মো. সেলিম খান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে পাটের গুরুত্ব অপরিসীম। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারলে কৃষক, উদ্যোক্তা ও শিল্পখাত সমানভাবে উপকৃত হবে।

তিনি পাটভিত্তিক বহুমুখী পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির কার্যকর সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেন।

কর্মশালার শুরুতে বিজেআরআইয়ের পরিচালক (কারিগরি) প্রকৌশলী মো. মোসলেম উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে জুট ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ কে এম শাহাদাৎ হোসেন বিজেআরআই উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলোর সম্ভাবনা, মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ এবং কৃষি ও শিল্পখাতে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় কৃষি, কারিগরি ও জুট-টেক্সটাইল খাতের সাতটি প্রযুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কেনাফ ও পাটবীজ মাড়াই যন্ত্র, চরাঞ্চলের জন্য উন্নত শস্য বিন্যাস, হাইব্রিড কম্পোজিট থেকে বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড, মালচিংয়ে ব্যবহারের জন্য পাটের ফেব্রিক, ন্যানোডাইং প্রযুক্তিতে পাটবস্ত্র রঞ্জন এবং জুট-কটন ব্লেন্ডেড ফেব্রিক রঞ্জনের প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তি কৃষক, শিল্প উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

Agro

বক্তারা বলেন, পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনই যথেষ্ট নয়, সেগুলো দ্রুত মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ ও কার্যকরভাবে হস্তান্তর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, শিল্প উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারলে দেশের পাটখাত আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিসহ বিভিন্ন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, বেসরকারি সংস্থা, শিল্প উদ্যোক্তা, কৃষক প্রতিনিধি এবং বিজেআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালা শেষে প্রধান অতিথি বিজেআরআই উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পণ্যের প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিকে কৃষক ও শিল্পখাতের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিয়ে পাটের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর