মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

লাম্পি স্কিন ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে সার্কের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

লাম্পি স্কিন ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে সার্কের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ শুরু

দক্ষিণ এশিয়ায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার কান্ডিতে তিন দিনব্যাপী সার্ক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে বাংলাদেশসহ পাঁচটি সার্ক দেশের প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

‘দক্ষিণ এশিয়ায় এলএসডি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ঢাকাভিত্তিক সার্ক কৃষি কেন্দ্র, শ্রীলঙ্কার কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (জিকেএ)। এতে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক এবং সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের ফোরামের চেয়ারম্যান ড. বি এস এস পেরেরা সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণিরোগ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনূস আলী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় রোগ নজরদারি জোরদার, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এলএসডি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।

মূল প্রবন্ধে শ্রীলঙ্কার ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজিস্ট ড. এস পুভানেন্দ্রন বলেন, মশা, মাছি ও টিকের মতো রক্তচোষা পোকামাকড়ের মাধ্যমে লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রধানত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত প্রাণীর ত্বকের ক্ষত ও শুকিয়ে যাওয়া খোসায় ভাইরাস দীর্ঘদিন জীবিত থাকতে পারে। এ ছাড়া উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, প্রাণী স্থানান্তর এবং দুর্বল বাহক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও রোগ বিস্তারে ভূমিকা রাখে।

Veterinary

গ্রাম উন্নয়ন কর্মের পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষক, প্রাণিচিকিৎসক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, এলএসডি মোকাবিলায় তথ্য বিনিময়, কারিগরি সহযোগিতা এবং সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এই রোগের বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

শ্রীলঙ্কার কৃষি বিভাগের মহাপরিচালক ও সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বোর্ড সদস্য ড. ডব্লিউ এ আর টি উইক্রমারাচ্চি প্রাণিসম্পদ খাতে এলএসডির অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে গবেষণা, রোগ নজরদারি এবং নীতিগত সহায়তা সমন্বিতভাবে জোরদারের আহ্বান জানান।

সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও গ্রামীণ জীবিকার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. এ কালুপাহানা। বিশেষ সম্মানিত অতিথি ছিলেন দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস পিয়াসিরি। তারা গবেষণাভিত্তিক কৌশল, কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি এবং শক্তিশালী ভেটেরিনারি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর