কৃষি বিপণনে ক্ষুদ্র কৃষকদের সম্পৃক্ত করতে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) পরিচালিত বাংলা-শেপ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১২ মঙ্গলবার) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে ফলাফল উপস্থাপন ও পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
কর্মশালায় জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ টাকাহাশি জুনকো, বার্কের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শাহীন আখতার, ডিএই’র পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের পরিচালক সৈয়দুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবির, টিম লিডার মাসাহিরো কাওয়ামুরা এবং এ আর মালিক সিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউস সোপান মালিকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কৃষি মন্ত্রণালয়, ডিএই, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, এনজিও, উন্নয়ন সংস্থা এবং প্রকল্পভুক্ত কৃষকরাও এতে অংশ নেন।
জাইকার কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের পূর্ণ নাম মার্কেট-অরিয়েন্টেড এগ্রিকালচার প্রমোশন প্রজেক্ট ফর স্মল-হোল্ডার হর্টিকালচার ফার্মার্স থ্রু মাল্টি-স্টেকহোল্ডার পার্টনারশিপস। এর লক্ষ্য ছিল ক্ষুদ্র কৃষকদের আধুনিক কৃষি বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শেপ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা প্রচলিত উৎপাদননির্ভর ধারা থেকে বাজারনির্ভর উৎপাদনের দিকে যেতে পারেন।
প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৮১৪ জনের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক অংশ নেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী রয়েছেন। এ ছাড়া ১১২টির বেশি কৃষক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী কৃষকদের গড় আয় প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কৃষিকাজ ও বাজার কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ, পারিবারিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে ভূমিকা এবং সঞ্চয়ের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, ভবিষ্যতে শেপ পদ্ধতি আরও বিস্তৃতভাবে দেশের কৃষি ব্যবস্থায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম, নীতি কাঠামো, বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং কৃষিঋণ ও বাজার সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশ ও জাপানের কৃষি সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের বাজারমুখী উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তৈরি করেছে।
এজেড/এআর




