জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর উন্নয়ন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাজধানীতে সমবেত হয়েছেন কয়েক শতাধিক তরুণ জলবায়ু কর্মী।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক, প্রকৃতি ছাড়া ভবিষ্যৎ নাই’ স্লোগানে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন যুব সংগঠন, পরিবেশবাদী প্ল্যাটফর্ম ও তরুণ অ্যাক্টিভিস্টরা। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ৩০টি যুব সংগঠন এবং ৮টি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ হাবের সদস্যরা সংহতি প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে অংশ নেওয়া তরুণদের হাতে ছিল নানা ধরনের ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও হাতে লেখা ব্যানার। কোথাও লেখা ছিল ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার চাই’; কোথাও ‘ফসিল ফুয়েল বন্ধ কর’; আবার কোথাও ‘পৃথিবী বাঁচাও, ভবিষ্যৎ বাঁচাও’; ‘প্রকৃতি ছাড়া ভবিষ্যৎ নাই’ প্রভৃতি স্লোগানে আয়োজিত এই সমাবেশে তারা পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, এটি প্রতীকীভাবে তুলে ধরেছে সেই ভয়াবহ ভবিষ্যতের চিত্র, যা পৃথিবীর সামনে অপেক্ষা করছে; যদি এখনই প্লাস্টিক দূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো না হয়। প্লাস্টিক বর্জ্যে তৈরি প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে অনেক তরুণকে ছবি তুলতে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে দেখা যায়।
জলবায়ু কর্মীরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি ইতোমধ্যেই বাস্তব সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। অথচ এসব সংকটের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কেবল প্রতীকী প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন কার্যকর নীতি ও বাস্তব উদ্যোগ। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই নগর পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস টিমের লিড মো. নাজমুল আহসান বলেন, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ সেইসব তরুণদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে যারা জলবায়ু বিচার এবং একটি ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরের দাবি জানাচ্ছে। জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া একটি মৌলিক মানবাধিকার। তাই জ্বালানি খাতের ন্যায়বিচার এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা অপরিহার্য।
তিনি আরো বলেন, আমাদের অবশ্যই তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন ও জোরালো করতে হবে, যাতে তারা কেমন ভবিষ্যতে বাস করতে চায় তা নিজেরাই নির্ধারণ ও ব্যক্ত করতে পারে। জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব তাদের ভবিষ্যতের ওপর পড়বে। তাই তাদের কণ্ঠকে গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশে বক্তব্য দেন তরুণ জলবায়ু কর্মী ইমরান আহম্মেদ ইমন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নারীদের ওপর, তবুও তাদের কণ্ঠই সবচেয়ে কম শোনা হয়। ন্যায়বিচারভিত্তিক জলবায়ু সমাধানে নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা এখন জরুরি। এই গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক সেই সমতার দাবিকে আরো জোরালো করে তুলছে।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু নীতি নির্ধারণে নারী, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সমাজের সব স্তরে সমানভাবে পড়ে না। ফলে সমাধানও হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণরা জানান, তারা শুধু একটি দিনের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু আন্দোলনকে আরো বিস্তৃত করতে চান। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে তারা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ভবিষ্যতেও এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে একটি র্যালি বের করেন। র্যালিতে অংশ নেওয়া তরুণরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানি ত্যাগ, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এএইচ/এফএ




