প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (১৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ সরকারের বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফার্মার্স কার্ড’ উদ্বোধন করেছেন। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভিসা।
এই কার্ডটি দেশের কৃষকদের মাঝে সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা বিতরণকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র সহযোগিতায় ভিসা নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক এই কার্ডে কৃষকের পরিচয় উল্লেখ থাকবে এবং তারা ডিজিটাল লেনদেন সুবিধা নিরাপদে উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি তারা সরকারি সহায়তাসহ অন্যান্য সেবা আরও দ্রুত ও সহজে লাভের সুযোগ পাবেন।
বিজ্ঞাপন
বাংলা নববর্ষের দিন চালু হওয়া এই উদ্যোগটি কৃষি খাতে আধুনিকায়ন, তথা জাতীয় উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারকে তুলে ধরছে। মূলত কৃষক পরিচয়পত্র হিসেবে কার্ডটি ডিজাইন করা হলেও, ভিসার প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি একটি নিরাপদ ও সহজ নগদহীন (ক্যাশলেস) লেনদেন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করবে।
প্রাথমিক পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষক এই উদ্যোগের আওতাধীন হয়েছে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রেরণ করা হয়েছে, যা এই কার্ডের মাধ্যমে তারা ব্যবহার করতে পারবেন।
একই দিনে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ২০,৬৭১ জন কৃষক, মৎস্যচাষি, খামারি ও লবণচাষীদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেকে ২,৫০০ টাকা করে পেয়েছেন, যা তারা বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কিনতে ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়া’র শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, বোদা, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেসারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর, রাজবাড়ী’র গোয়ালন্দ এবং কক্সবাজারের টেকনাফ – এই ১১ উপজেলায় ফার্মার্স কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা মোট ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন, যার মধ্যে রয়েছে; ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্প খরচে কৃষিযন্ত্র ব্যবহার, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগ ও পোকামাকড় দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ।
বিজ্ঞাপন
এ প্রসঙ্গে ভিসা’র বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বলেন, “এটি আধুনিক বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবময় মুহূর্ত। ফার্মার্স কার্ড উদ্যোগটি কৃষকের পরিচিতি, সেবা ও ডিজিটাল লেনদেনকে একত্রিত করেছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও উন্নত করবে। এটি আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথও সহজ করবে। এমন একটি জাতীয় উদ্যোগে সরকার ও সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খান বলেন, “ফার্মার্স কার্ড উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছি। সরকারি উদ্যোগেরর সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা সরাসরি যুক্ত হওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক সেবার বিস্তারে আমাদের এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।”
এমন একটি যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগের একমাত্র আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক হিসেবে নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনে ভিসা তাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। ফার্মার্স কার্ড উদ্যোগটি সরকারি সেবায় পরিচয় ও পেমেন্ট ব্যবস্থার একটি সফল মডেল, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশও অনুসরণ করতে পারে।
এজেড




