বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই জীবিকায় মাছ চাষের গুরুত্ব তুলে ধরে ওয়েবিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই জীবিকায় মাছ চাষের গুরুত্ব তুলে ধরে ওয়েবিনার

দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই জীবিকা গড়ে তোলায় মাছ চাষের ভূমিকা তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সামুদ্রিক ও মিঠাপানি মাছ চাষে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ, জলবায়ুর প্রভাব, অভিযোজন কৌশল এবং টেকসই মাছ চাষ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সার্ক কৃষি কেন্দ্র একটি আঞ্চলিক ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা এসব গুরুত্ব তুলে ধরেন।


বিজ্ঞাপন


ওয়েবিনারে ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সার্ক সদস্য দেশগুলোর বিশেষজ্ঞরা পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক, উপকূলীয় এবং মিঠাপানি মাছ চাষ সম্পর্কিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। এ সময় গবেষক, একাডেমিক, নীতিনির্ধারক, বাস্তবচর্চাকারী, সরকারি ও বেসরকারি পেশাজীবী, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

ওয়েবিনারের মূল আলোচক ছিলেন ড. সেভ্যান্ডি জয়াকোডি, চেয়ার প্রফেসর, মাছ চাষ ও মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ, ওয়ায়াম্বা বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রীলঙ্কা এবং ড. বি কে দাস, পরিচালক, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ – সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ভারত। 

ড. দাস মিঠাপানি মাছ চাষে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীর প্রবাহ ও বাসস্থানের পরিবর্তন এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ড. জয়াকোডি সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মাছ চাষে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তীব্র আবহাওয়া এবং ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন এবং গবেষণা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মাছ চাষ এবং জলজ পরিবেশ ক্রমেই জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উষ্ণতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা এবং জলমান পরিবর্তন মাছ উৎপাদন ও লাখ লাখ মানুষের জীবিকা বিপর্যস্ত করছে। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং গবেষণার মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল মাছ চাষ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব উল্লেখ করেন। 


বিজ্ঞাপন


ওয়েবিনারের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ড. মো. শরীফুল ইসলাম, সিনিয়র প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ (মৎস্য), সার্ক কৃষি কেন্দ্র। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার মাছ চাষের প্রধান চ্যালেঞ্জ যেমন লবণাক্ততার বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জলপ্রবাহের প্যাটার্ন পরিবর্তন তুলে ধরেন।

সমাপনী বক্তব্যে কাঠমান্ডুর সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি অ্যান্ড এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, মাছ চাষ দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

ওয়েবিনারের শেষাংশে অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন এবং জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সমন্বয় ও জলবায়ু-সহনশীল মাছ চাষ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর