রাজধানীতে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট ডায়ালগ’ ও ইফতার অনুষ্ঠানে জলবায়ু ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চরম মূল্য দিতে হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ‘ক্লাইমেট এ্যাকশন এন্ড জাস্টিজ ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পরিবেশ-সংকটের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও সরকারের করণীয় নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমানের কঠিন বাস্তবতা। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং নগরাঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে দেশের কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে তাপদাহ ও জলাবদ্ধতা নতুন মাত্রা পেয়েছে, অন্যদিকে উপকূলের মানুষ বারবার ঘরবাড়ি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
সরকারের করণীয় প্রসঙ্গে আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, উপকূল রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নগর পরিকল্পনায় জলাধার ও সবুজায়ন সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ফাউন্ডেশনের সদস্য মঈন উদ্দিন খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনও জরুরি। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ শিক্ষা জোরদার এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
রাশেদ উল হক সরকার বলেন, জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরিসরে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন আদায়ে সরকারকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সদস্য মোতাহার হোসেন, এস এম রানা, মোহসিনা শাওন, জান্নাত, শর্মী খান, অভিনেতা বিলাশ ও ছলিমউল্লাহ মেজবাহসহ অনেকে।
বিইউ/ক.ম

