ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সুনির্দ্দিষ্ট অঙ্গীকার রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবেশবিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্কের (বেন)।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংগঠন দুটির যৌথ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন বাপার সহ সভাপতি ড. শহীদুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘অর্ন্তর্বতী সরকারের অধীনে পরিবেশ কমিশন গঠিত না হওয়ায় দেশের পরিবেশ বিষয়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন যথাযথভাবে হয়নি। একই সঙ্গে এ সময় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।’
ড. শহীদুল ইসলাম জানান, সম্মেলনে পরিবেশ সংস্কারের ওপর সাতটি বিশেষজ্ঞ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের ১১৭ জন বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এছাড়া পানি, নগরায়ন, জ্বালানি, কৃষি, দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন, পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য, উপকূল, বন্দর ও সমুদ্র দূষণ এবং ভূমিকম্প ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আটটি বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করা হবে।
বেন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বাপার সহ-সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের আমলে অনেক সংস্কার কমিশন করা হলেও পরিবেশ ইস্যুতে কোনো কমিশন হয়নি। তিনি বলেন, পরিবেশ সংস্কারের বিষয়টি জুলাই সনদ এবং আসন্ন নির্বাচনের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। পরিবেশ নীতি পরিবর্তনের পাশাপাশি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সংস্কারেরও আহ্বান জানান তিনি।
বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় খণ্ডকালীন বা সীমিত প্রকল্প থেকে বের হয়ে কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় ব্যবস্থাপনাসহ সব খাতে সমন্বিত ও পদ্ধতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, জলবায়ুবান্ধব প্রযুক্তি, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
স্বাগত বক্তব্যে বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, দেশের পরিবেশ রক্ষায় বাপা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন সময়ে সরকারের ছত্রছায়ায় সুবিভোগীরা পরিবেশ বিনষ্ট করছে। তিনি বলেন, আমরা চাই না দেশের পরিবেশ নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়ুক। এ কারণে এ বছরের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এএইচ/ক.ম

