সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ঢাকা

৩০ মিনিটে মাঠেই গম ব্লাস্ট শনাক্ত করা যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

৩০ মিনিটে মাঠেই গম ব্লাস্ট শনাক্ত করা যাবে
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি: ঢাকা মেইল 

মাঠে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০ মিনিটেই গম ব্লাস্ট শনাক্তের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা। জটিল ল্যাব টেস্টের ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত ফল জানানো যাবে বলে গবেষকদের দাবি। ফলে রোগ বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে, যা কৃষকদের ক্ষতি কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে এ বিষয়ে এক কর্মশালার উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। 


বিজ্ঞাপন


ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (আইবিজিই)-র উদ্যোগে এবং 'ডিজিজ আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (ডিওয়াস)–হুইট ব্লাস্ট ডায়াগনস্টিক' প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মোঃ তোফাজ্জল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মশালায় কিটের বৈশিষ্ট্য, পরীক্ষণ পদ্ধতি, মাঠ পর্যায়ের কার্যকারিতা ও ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

received_2015663889273939
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি: ঢাকা মেইল 

 

গবেষকরা জানান, এলএফএ স্ট্রিপ পদ্ধতিভিত্তিক এ কিটের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে গম ব্লাস্ট সৃষ্টিকারী ছত্রাক ম্যাগনাপোরদে অরাইজা ট্রিটিকাম (এমওটি) শনাক্ত করা সম্ভব। প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার খরচ মাত্র ৩০০-৪০০ টাকা হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের জন্য এটি সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। দেশের বিভিন্ন হটস্পট এলাকায় রোগ ছড়ানোর আগেই সতর্কতা ব্যবস্থা নিতে এ প্রযুক্তি ভূমিকা রাখবে।


বিজ্ঞাপন


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইবিজিই-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহ মোহাম্মদ নাইমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বারি, বিরি, বিডিসি, বিজেআরআই, ওএমসি হেলথ কেয়ার, বিডব্লিউএমআরআই, এসিআই, অ্যাপেক্স বায়োফার্টিলাইজার, লালতীর, সুপ্রিম সিড, ব্র্যাক সিডসহ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও শিল্পখাত থেকে প্রায় ৭০ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, গাকৃবিতে আন্তর্জাতিকমানের বিজ্ঞানী ও গবেষণা সুবিধা রয়েছে বলেই আন্তর্জাতিক বিবিধ র‍্যাংকিংয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ অবস্থানে। তিনি আরও বলেন, এ কিটের সাহায্যে রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এতে দেশের গম উৎপাদন সুরক্ষিত থাকবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

দ্বিতীয় সেশনে কিটের কার্যকারিতা ও ব্যবহার নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন আইবিজিই-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. দীপালী রাণী গুপ্তা। বিকেলে প্রফেসর ড. তোফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও গবেষণা বিষয়ক মতামত তুলে ধরেন। সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি হয়।
 
এএইচ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর