শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মাটি ও ফসলের সুরক্ষায় জৈব সার ব্যবহারে ভর্তুকি দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০৭ এএম

শেয়ার করুন:

মাটি ও ফসলের সুরক্ষায় জৈব সার ব্যবহারে ভর্তুকি দরকার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের কৃষি খাত গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই হয়েছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভর করে। এতে মাটির উর্বরতা কমে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যের পুষ্টিগুণও কমেছে। ফলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কৃষির টেকসই ভবিষ্যৎ, মানুষের স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তায়। মাটি ও পরিবেশের গুণমান ঠিক রেখে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে রাসায়নিকের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য জৈব সার ব্যবহারে ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এই আহ্বান জানানো হয়। ‘মাটি ও ফসলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সারে ভর্তুকি’ শিরোনামে এই আলোচনা সভা যৌথভাবে আয়োজন করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। তাদের সহ-আয়োজক ছিল আরও ২৯টি প্রতিষ্ঠান।

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘‌দেশে জৈব সারের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে ৬০-৬৫ লাখ টন। এই সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ৭৫ ভাগের বেশি কাঁচামাল দেশেই রয়েছে। কার্যকর উদ্যোগ নিলে উৎপাদনের শতভাগ চাহিদা অভ্যন্তরীণভাবেই পূরণ করা সম্ভব। এতে মাটি, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতে উন্নতি ও গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।’


বিজ্ঞাপন


গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তিনি বলেন, ‘খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। বর্তমানে কৃষি খাতে বরাদ্দের ৭০ শতাংশই ভর্তুকিতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আবার ৮০ শতাংশ অর্থ রাসায়নিক সারের পেছনে ব্যয় করা হয়। সরকার রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৩২-৩৫ শতাংশ কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করছে।’

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি খাত গত পাঁচ দশকে যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তার পুরোটাই ছিল রাসায়নিক উপকরণনির্ভর। এতে মাটির অবক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, ভূগর্ভস্থ পানির ঘাটতি ও খাদ্যের পুষ্টিগুণ কমেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো দীর্ঘমেয়াদে কৃষি, মানব স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার স্থায়িত্বকে বিপন্ন করছে।’

এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর