দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল সম্প্রদায় গঠনে এগ্রোফরেস্ট্রি বা কৃষিবনবিদ্যার ভূমিকা নিয়ে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ বৈঠক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সার্কভুক্ত ছয়টি দেশের প্রায় ৩০ জন গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বাস্তবায়নকারী এতে অংশ নেন।
উদ্বোধনী সেশনে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. রাজা উল্লাহ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তা সমস্যা মোকাবেলায় আগ্রোফরেস্ট্রি কার্যকর প্রাকৃতিক সমাধান। কৃষি ও বনায়নের মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান বক্তা সিআইএফওআর-আইসিআরএএফের সিনিয়র ফেলো ড. এস কে ধ্যানি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে খাদ্যের চাহিদা ৫০ শতাংশ বাড়বে, তাই উর্বর কৃষিজমি বনায়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। কৃষি ব্যবস্থায় গাছ সংযোজন করলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ, কার্বন সঞ্চয় ও গ্রামীণ জীবিকার উন্নয়ন সম্ভব। তিনি নীতিনির্ধারণে সমন্বয়, চারা সরবরাহ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার আগ্রোফরেস্ট্রি কংগ্রেসে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, এগ্রোফরেস্ট্রি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সার্ক কৃষি কেন্দ্র এ উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রশংসা করেন।

প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এগ্রোফরেস্ট্রির সফল উদাহরণ রয়েছে। এখন এটি কৃষি নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার সময় এসেছে। এর মাধ্যমে শুধু গ্রামীণ জীবিকা নয়, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এছাড়া এগ্রোফরেস্ট্রি প্রোমোশন নেটওয়ার্কের ড. রোল্যান্ড ফ্রুটিগ বলেন, এগ্রোফরেস্ট্রি শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়, এটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার সহায়ক ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বৈঠকের প্রথম দিন প্রযুক্তিগত সেশনে সার্ক অঞ্চলে এগ্রোফরেস্ট্রি সম্প্রসারণের কৌশল, অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন কেস স্টাডি উপস্থাপন করা হয়। সেশনের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) ড. মো. সাইফুল্লাহ।
এএইচ/ক.ম




