বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ পালন উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর/সংস্থা/কর্তৃপক্ষসমূহ ৫ লাখ গাছ রোপণ করবে। সোমবার (৮ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে রোববার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত।
সোমবার (৮ জুলাই) পূর্বাচলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর আয়োজনে বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ পালন-২০২৪ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ড. মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার (অব.)। সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নবীরুল ইসলাম।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু। বৃক্ষ শুধু প্রাকৃতিক শোভাই বাড়ায় না, মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যা প্রতিরোধ করে, ঝড়-তুফানকে বাধা দিয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণেও বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। বৃক্ষ ছাড়া পৃথিবী মরুভূমিতে পরিণত হতো। বৃক্ষ অক্সিজেন সরবরাহ করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে দেশব্যাপী আজকের এই যে বৃক্ষ আন্দোলন, বৃক্ষ সচেতনতা, তার মূল প্রবক্তা ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত তিনিই দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণকে আনুষ্ঠানিকতা দান করেন। দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী যুদ্ধে শুধু জীবন ও সম্পদই নষ্ট হয়নি, দেশের বৃক্ষ ও বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তা থেকে উত্তরণের জন্য, দেশকে বৃক্ষসম্পদে আরও সমৃদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা দেশে বৃক্ষরোপণ অভিযান কার্যক্রম চালু করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চারা রোপনের উৎকৃষ্ট সময় হিসেবে সাধারণত বিবেচনা করা হয় বর্ষাকালকে। অর্থাৎ জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস গাছের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আজকের এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমি রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. নবীরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের দেশে বৃক্ষের তথা বনাঞ্চলের পরিমাণ নিতান্তই নগণ্য। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণ করা। বনাঞ্চলের এই ঘাটতি পূরণে দেশের আনাচে কানাচে, ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী উঁচু নিচু জমি, অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়ির আশে পাশের খালি জায়গা, বাড়ির ছাদ, রাস্তা, রেললাইন ও খাদের পাশে, চরাঞ্চলে ও পার্বত্য এলাকায় বৃক্ষরোপণ করে দেশের বনজ সম্পদের চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণসহ প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ টেকসই পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন আধার সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমি আশা করি, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আজ যে বৃক্ষরোপন করা হলো তা সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণ সচেষ্ট থাকবেন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ড. মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার (অব.) বলেন, বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিমূলক বৃক্ষরোপণ প্রচারাভিযান বরাবরই একটি কার্যকর উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত বৃক্ষপ্রেমী। তিনি সবর্দা বৃক্ষরোপন ও বৃক্ষের যত্নের প্রতি সজাগ থাকতেন। সকলকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করতেন। বলা হয়ে থাকে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামের একটি অংশ ছিল বৃক্ষরোপণ।
রাজধানী ঢাকা শহরের অতিমাত্রিক জনসংখ্যার চাপ হ্রাস ও আবাসন সমস্যা লাঘবের পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকার অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ আদর্শ আবাসিক শহর এবং ঢাকাকে একটি মানবিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই বৃক্ষরোপন কর্মসূচি বিশেষ অবদান রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ করেন।
রাজউকের তত্ত্বাবধানে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সংরক্ষিত বন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে ১৪৪.৭৭ একরের সংরক্ষিত বন, ১২.৬৩৮ একর জায়গা নিয়ে ইকো পার্ক, ৭১.১৬ একরের সীমানা বন, ২০.২৩৮ একরের আরবান গ্রীন এলাকা এবং লেকের পাড়ে ৭১.৬১ একর জায়গা নিয়ে গ্রীন বেল্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিইউ/এমএইচএম




