দীর্ঘদিন ধরে চলছে মেঘনার তীব্র জোয়ারের স্রোতে চলা ভয়াবহ ভাঙন আতঙ্ক। মেঘনা নদীর ভাঙনের এ তাণ্ডবলীলায় দিনকে দিন বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, মসজিদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।
মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার জন্য ২০২১ সালের ১ জুন একনেকের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। এ বরাদ্দ পাওয়ার পর স্বস্তি পেয়েছে উপকূলবাসী। অবহেলিত উপকূলীয় অঞ্চলে এত বড় বরাদ্দ সত্যিই প্রশংসনীয়।
বিজ্ঞাপন
এখন পর্যন্ত ৪৩টি ভাগে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার (রামগতিতে সাড়ে পাঁচ ও কমলনগরে আট কিলোমিটার) এলাকার জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রামগতিতে ১৭টি এবং কমলনগরে ২৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাঁধ নির্মাণে কাজ করছে বলে দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। এর মধ্যে রামগতি ১৮ কিলোমিটার এবং কমলনগর ১৩ কিলোমিটার তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। রামগতিতে ৫৪টি লটে ৫৪ জন ঠিকাদার কাজ করবে।
রামগতি উপজেলার বয়ারচর ব্রিজ থেকে ওচখালী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬.২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ করা আছে, বাকি ৫.৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করবে পাউবো।
এ সাইটের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী এ এমএম নঈম বলেন, বয়ারচর ব্রিজ থেকে ওচখালী পর্যন্ত অংশে দুটি লটে কাজ পেয়েছে ঠিকাদার। একটি লটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেসিইএল অ্যান্ড কেসিসি জেবিকে ২০২২ সালের ১৪ আগস্ট কাজের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা শ্রমিক ও বালু সংকট দেখিয়ে গড়িমসি করে কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে কেসিইএল অ্যান্ড কেসিসি জেবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয় খান বলেন, ওখানে কাজ করার জন্য লোক পাচ্ছি না, তাই দেরি হয়েছে।
উপজেলার চরআলগী ও চরআলেকজান্ডার ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যয়, পাউবোর কার্যাদেশ পেলেও অনেক ঠিকাদার বালু ও শ্রমিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে যথাসময়ে কাজ শুরু করেনি।
চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন বলেন, ঠিকাদাররা যে ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছিল, তার পুরোপুরি কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি।
চরআলেকজান্ডার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আব্বাস সুমন বলেন, আমার ইউনিয়নের উকিলপাড়া অংশের ১৫০ মিটার বালুভর্তি জিও ব্যাগের বাঁধ নদীতে ধসে পড়েছে। বর্ষা শেষ হয়ে গেলেও ঠিকাদারদের কাজের কোনো খবর নেই।
চরআলগী ইউনিয়নের চরটবগী গ্রামের আরজু আমীন বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধের লক্ষ্যে সরকার উপকূলবাসীর জন্য যে বরাদ্দ উপহার দিয়েছে, তা সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকবে না। উপকূলীয় এলাকার মানুষকে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কঠোর তদারকির মাধ্যমে দ্রুত প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি।
পাউবোর লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, ভাঙন রোধে এরই মধ্যে রামগতি ও কমলনগরের ১৩ কিলোমিটার এলাকায় ১৮ লাখ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। এর মধ্যে রামগতিতে প্রায় ৫ লাখ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে এবং আনুমানিক ৩০ হাজার ব্লক তৈরি করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্ষায় নদী উত্তাল থাকায় বাঁধের কাজ বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। শীতের আগেই দ্রুত বাঁধের কাজ শুরু হয়ে যাবে। শীঘ্রই দৃশ্যমান অনেক কাজ দেখবে উপকূলের মানুষ।
তিনি আরও বলেন, যেসব ঠিকাদার কাজ করেন না, তাদেরকে কাজ করতে বাধ্য করা হবে। আর যেসব ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ শেষ করবে না, তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হবে। চরআলগী ও চরআলেকজান্ডারের স্থানীয়দের আশা অচিরেই যেন কাজ সম্পন্ন হয়। তাদেরকে নদীভাঙনের হাত থেকে বাঁচাবে সরকারের এ প্রকল্প।
পিআইবি ফিচার




