শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

লবণ সহিঞ্চু ব্রিধান-৬৭ কৃষকের জন্য আশীর্বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

লবণ সহিঞ্চু ব্রিধান-৬৭ কৃষকের জন্য আশীর্বাদ

খুলনার পাইকগাছা। মাঠের পর মাঠ লবণাক্ত জমি। আর সেই লবণ জমিতে দুলছে সোনালি ধান। স্বপ্ন নয় সত্যি। মাঠে ফসলের বিপ্লব দেখে খুশি পাইকগাছার কৃষকরাও। খাদ্য নিরাপত্তা আর কৃষকদের গোলা ভরিয়ে দিতে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণার ইনস্টিটিউট ব্রি'র লবণ সহিষ্ণু একটি জনপ্রিয় উচ্চফলনশীল জাতের বোরো ধান ব্রিধান-৬৭।

উপজেলা অনেক কৃষক এটি আবাদ করে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। লবণাক্ত জমিতে সবুজের সমারোহ হয়ে উঠবে লবণ সহিষ্ণু জাতের ফসল এটি যেন একটি চমক কৃষকদের জন্য।


বিজ্ঞাপন


জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাইকগাছা উপজেলায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায় বোরো আবাদে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৯শ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার স্থলে বোরো আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে। কিছু কিছু এলাকায় এবার লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ থাকায় বোরো আবাদ বৃদ্ধি পায়। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয় বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম।

কৃষকের নিবিড় পরিচর্যার ফলে রোগ বালাইয়ের প্রকোপ কম থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারের মৌসুমে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা উফশি জাতের ধান কাটা শুরু করেছে। বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। গত বছরের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশের মতো বেশি আবাদ হয়েছে লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান।

পাইকগাছার একাধিক কৃষক জানান, এটি বিরাট আশ্চর্যের। যে জমি খালি থাকতো কিছু হতো না সেখানে মণ মণ ধান হচ্ছে। পুরো জমিটা দেখতে সুন্দর লাগছে ভাবতেই পারি না।

salt-2
ব্রি'র সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে দক্ষ সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বোরো ২০২১-২২ মৌসুমে পতিত জমিতে লবণ সহণশীল ব্রি ধান-৬৭ জাতের ব্লক প্রদর্শনীর ‌'ফসল কর্তন উৎসব ও মাঠ দিবস' পালন করা হয়।


বিজ্ঞাপন


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ব্রি মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- ব্রি'র মৃত্তিকা বিভাগের প্রধান ড. আমিনুল ইসলাম, ব্রি সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান সিএসও ড. তাহমিদ হোসেন আনছারি, পাইকগাছার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার ইকবালসহ প্রমুখ।

ব্রি মহাপরিচালক জানিয়েছেন, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা যেদিকে চোখ যায় শুধু ধু ধু লবণ পানির ঘের। সেখানে লবণাক্ততার জন্য ধান চাষ করা যায় না। এই লবণাক্ত জমিতে ব্রি ধান৬৭ চাষ করা হয়েছে। এর আগে এ জমিতে লবণ পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ করা হতো। এবার কৃষকদের উদবুদ্ধ করে ধান চাষ করা হয়েছে। এর ফলন দেখে কৃষকরা কি পরিমাণ খুশি তাদের আগ্রহ বেড়েছে। বিঘাপ্রতি ২২/২৩ মণ ফলন হয়েছে জমিতে। আগামী বছর এই আবাদের এলাকা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন শাহজাহান কবীর।

তিনি আরও জানান, ব্রি এবছর আরও দুইটি নতুন অধিক লবণাক্ত সহিষ্ণু জাত ব্রি ধান ৯৭ ও ব্রি ধান ৯৯ উদ্ভাবন করেছে, যা এই এলাকায় প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় এ জাত দুটি আরও ভাল করবে এবং অধিক পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে।

salt-3

মাঠ কর্মদিসবে আসা কৃষক জমির মিয়া জানান, ধান ক্ষেত দেখে মনটা ভইরা যায়। আর এর আগে তো কিছু করি নাই খালিই থাকতো। স্যারেরা কইল এবার ধান লাগাতে। আশ্চর্য ঘটনা, এতো ফলন। অন্যান্য কৃষকরাও ফলন নিয়ে স্বস্তির কথা বলেন। ধারণা করা হচ্ছে এই কৃষকদের দেখে সামনে আরও অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হবেন, ফলনও বাড়বে। ওই অঞ্চলে যোগ হবে বাড়তি শষ্য।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা মেইলকে জানান, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। যার মধ্যে ২ হাজার ৪১২ হেক্টর ব্রি ধান-২৮, ১ হাজার ১৩৪ হেক্টর ব্রি ধান-৬৭ চাষ হয়েছে। এছাড়াও ব্রি ধান-৫৮, ব্রি ধান-৫০,  ব্রি ধান-৮৮,  ব্রি ধান-৭৪,র ব্রি ধান-৮১,  ব্রি ধান-৭৭, ব্রি ধান-৭৮, ব্রি ধান-৯৯,  ব্রি ধান-৬৩, ১৫ হেক্টর ব্রি ধান-৯২, বিনা ধান-১০, বিনা ধান-১৪, বিনা ধান-২৪ আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবছর প্রায় ৩৫-৩৯ শতাংশ অর্থাৎ ৪০ শতাংশের মতো বেশি জমিতে লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান আবাদ হয়েছে বলেও জানান।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের এখানে লবণ পানি উঠানো বন্ধ করলে আরও আবাদ বাড়বে। আর যেহেতু লবণ সহিষ্ণু জাতগুলোর ফলন ভালো হচ্ছে পতিত জমি চাষের আওতায় আসছে কৃষকদের মধ্যেও একটা আগ্রহ তৈরি হয়।

ডব্লিউএইচ/এমআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর